Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: শিব সেনার দলবদল সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহানার বেঞ্চ জানায়, বর্তমান আইন অনুযায়ী পরিষদীয় দলের (বিধায়ক বা সাংসদদের দল) চেয়ে রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই বেশি গুরুত্ব পায়। তাই শুধু পরিষদীয় দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই তা চূড়ান্ত বলে ধরা যাবে না।
কী নিয়ে এই মামলা?
মহারাষ্ট্রে শিব সেনা ভাঙনের পর একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে আলাদা শিবির গড়ে ওঠে। পরে লোকসভাতেও উদ্ধব ঠাকরের শিব সেনার কয়েকজন সাংসদ শিন্ডে শিবিরে যোগ দেন। এরপর উদ্ধব শিবিরের নেতা সুনীল প্রভু সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, দলবদল করা বিধায়কদের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তাঁদের বিধায়ক পদও বাতিল করা হয়নি। এছাড়াও উদ্ধব ঠাকরে আলাদা একটি মামলায় প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে নির্বাচন কমিশন শিব সেনার নাম ও প্রতীক একনাথ শিন্ডে শিবিরকে ব্যবহার করার অনুমতি দিল।
শুনানিতে কী বলল আদালত?
শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। পরিষদীয় দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সেটাই একমাত্র বিবেচ্য হতে পারে না।”তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি শুধু পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাহলে তা সঠিক পদ্ধতি নয়। রাজনৈতিক দলের অবস্থান ও সিদ্ধান্তকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আদালতে আগের শিব সেনা মামলার রায়ের কথাও উঠে আসে। তখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, কোনও পরিষদীয় দল নিজের ইচ্ছায় স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কোনটি আসল রাজনৈতিক দল, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বিধায়ক বা সাংসদদের সংখ্যা নয়, রাজনৈতিক দলের অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ।
কপিল সিব্বলের সওয়াল
উদ্ধব ঠাকরের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, দলের সংবিধান বৈধ কি না, তা বিচার করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নয়। সিব্বল জানান, একনাথ শিন্ডেকে একসময় উদ্ধব ঠাকরেই দলনেতা করেছিলেন। পরে তাঁর নেতৃত্বেই ৩১ জন বিধায়ক দলবদল করেন। সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী তাঁদের সদস্যপদ বাতিল করা যেত বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যেভাবে জনপ্রতিনিধিরা দল বদল করছেন, সরকার ভেঙে যাচ্ছে, তা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী।”
নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানতে চান, নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও প্রশ্ন তোলেন, দলের প্রতীক কি মূল রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়?
এই প্রশ্নের জবাবে কপিল সিব্বল সম্মতি জানালে বিচারপতি বলেন, শুধুমাত্র পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার দুপুরে হবে।


