Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু (Asaram Bapu)। স্বাস্থ্যগত কারণে সাজা স্থগিতের আবেদন খারিজ করলেও এবার AIIMS-এর সুপারিশ মেনে জেলের ভিতরে ২৪ ঘণ্টার প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীর অনুমতি দিলো সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে শুনানিতে রাজস্থান হাইকোর্টে প্যারোল নেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগও সামনে আসায় তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত।
AIIMS কী জানালো?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত AIIMS মেডিক্যাল বোর্ড ৩১ জুলাই জমা দেওয়া রিপোর্টে জানায়, আসারামের (Asaram Bapu) সর্বক্ষণের পরিচর্যার প্রয়োজন। রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি করোনারি আর্টারি ডিজিজ, অস্টিওপোরোসিস, থ্যালাসেমিয়া, ক্রনিক হাইপোনেট্রেমিয়া এবং বারবার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তক্ষরণ-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।তবে এই অসুস্থতার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই বলেই মত দিয়েছে মেডিক্যাল বোর্ড।
স্বাস্থ্য রিপোর্টের ভিত্তিতেই আদালতের নির্দেশ
বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি. বি. ভারালের বেঞ্চ AIIMS-এর মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেয়। আদালত জানিয়েছে, তাঁকে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, AIIMS-এর সুপারিশ “letter and spirit”-এ কার্যকর করা হবে।
প্যারোল নিয়ে তথ্য গোপনের অভিযোগ
সম্প্রতি রাজস্থান হাইকোর্ট ৮৫ বছর বয়সি আসারামকে ২০ দিনের নিয়মিত প্যারোল দেয়। আদালত জানায়, তিনি ১৩ বছরেরও বেশি সময় কারাবাস করেছেন এবং অতীতে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্ত থাকার সময় কোনও শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠেনি। নির্দিষ্ট শর্ত ও ব্যক্তিগত বন্ডের ভিত্তিতে তাঁকে ওই প্যারোল দেওয়া হয়। তবে রাজস্থান হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলার কথা জানানো হয়নি। আবার সুপ্রিম কোর্টেও হাইকোর্টে প্যারোল চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। শুনানির সময় এই তথ্য গোপন করার বিষয়টি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সামনে আনলে বিস্ময় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সুন্দরেশ বলেন, “আমাদের নির্দেশের পরেও?” পরে তিনি মন্তব্য করেন, “এটা ঠিক হয়নি।” আদালত জানিয়েছে, এই অভিযোগের বিস্তারিত শুনানি পরে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে যোধপুরের আশ্রমে এক নাবালিকা ভক্তকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আসারামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ২০১৮ সালে যোধপুরের বিশেষ POCSO আদালত তাঁকে ধর্ষণ, POCSO আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। চলতি বছরের মে মাসে রাজস্থান হাইকোর্ট মূল ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং আমৃত্যু কারাদণ্ডের শাস্তি বহাল রাখে। যোধপুর মামলার পাশাপাশি গুজরাটের একটি পৃথক ধর্ষণ মামলাতেও আসারাম আজীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। বর্তমানে তিনি যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে রয়েছেন। তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং সাজা স্থগিতের আবেদন এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ খোলা রেখেছে শীর্ষ আদালত।


