ঢাকা: বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর ২ বছর দেশছাড়া বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। এতদিন ভারতেই অন্তরালে ছিলেন মুজিব-কন্যা। গতকাল অর্থাৎ ৫ আগস্ট, দেশ ছেড়ে আসার দিনেই অবশেষে প্রথমবার জনসমক্ষে ভাষণ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। আর সেখানেই তাঁর বহু প্রতীক্ষিত দেশে ফেরার ঘোষণা করেছেন হাসিনা। তারপর থেকেই নতুন করে অশান্তি শুরু হয়েছে পদ্মাপাড়ে!
অভিযোগ, হাসিনার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক শাকিব আল হাসানের (Shakib Al Hasan) পৈতৃক বাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা ছোড়া হয়। পাশাপাশি বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার দিল্লি থেকে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাকিব আল হাসানও। অভিযোগ, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার প্রায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মাগুরা শহরের কেশাম্বর এলাকায় শাকিবের পৈতৃক বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ইট-পাথর ছোড়া, দরজা-জানলা ভাঙচুর এবং পেট্রল বোমা নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টাও হয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর আওয়ামি লিগ একটি বিবৃতি জারি করে দাবি করেছে, বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি সংবাদমাধ্যমগুলিকে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বক্তব্য সম্প্রচার না করার জন্য ভয় দেখিয়েছিল। দলের অভিযোগ, সেই ঘটনার পরই শাকিব আল হাসানের (Shakib Al Hasan) বাড়িতে হামলা হয়। আওয়ামি লিগের বক্তব্য, এই হামলা থেকেই বোঝা যায়, তাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপর কী ধরনের চাপ এবং অত্যাচার চলছে! তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং শাকিব আল হাসানের পৈতৃক বাড়িতে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আপাতত হামলাকারীদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ এ বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে মগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে জয়ী হন ক্রিকেটার শাকিব আল হাসান (Shakib Al Hasan)। আর তাঁর আট মাসের মধ্যেই শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। শাকিবের বিরুদ্ধেও দায়ের হয় খুনের মামলা। বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর ২ বছর দেশে ফিরতে পারেননি তিনিও।


