Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: জমি প্রতারণা মামলায় যে কোনও সময় গ্রেফতার (Arrest) হতে পারেন—এই আশঙ্কায় এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল (TMC) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy)। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির জরুরি শুনানি হতে পারে।
হাইকোর্টে স্বস্তি মেলেনি
শালবনির জমি প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার এড়াতে আগাম জামিন ও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন সুমিত রায়। তবে গত সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সেই আবেদন খারিজ করে দেন। যদিও আলাদা একটি চাকরি দুর্নীতি মামলায় শর্তসাপেক্ষে তাঁকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছিল। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজির হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।
সুমিতের আশঙ্কা, চাকরি দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে গেলেই পুলিশ তাঁকে শালবনির জমি প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার করতে পারে। সেই কারণেই তিনি বুধবার জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।
কী অভিযোগ?
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জাল নথি ব্যবহার করে বেআইনিভাবে সরকারি জমি দখল ও বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় ছিল। অভিযোগ, এই চক্রের কাজ সুমিত রায়ের সম্মতি ও মদতেই চলত এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছে।
জারি রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা
অভিযোগের তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই সুমিত রায়ের খোঁজে তল্লাশি চালায় পুলিশ। কিন্তু তাঁকে খুঁজে না পাওয়ায় তদন্তকারী সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়। এরপর মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
গত মঙ্গলবার শালবনির মামলায় তদন্তের স্বার্থে সিআইডির একটি দল নিউ আলিপুরে সুমিত রায়ের বাড়িতেও যায়। এরপর তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আগাম জামিনের আবেদন করেন এবং দ্রুত শুনানির জন্য বেঞ্চ পরিবর্তনের আর্জি জানান। কিন্তু হাইকোর্ট সেই আবেদন গ্রহণ না করে নিয়মিত বেঞ্চেই শুনানির নির্দেশ দেয়।
আইনজীবীর দাবি
অন্যদিকে, ডেবরার চাকরি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, ২০২৩ সালের ১৪ জুন দায়ের হওয়া মামলায় প্রায় তিন বছর পরে তাঁর মক্কেলের নাম যুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার মাধ্যমে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই ঘটনায় সুমিত রায়ের সরাসরি জড়িত থাকার কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও তদন্তকারীরা আদালতে দেখাতে পারেননি। হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরই গ্রেফতারির আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হলেন সুমিত রায়।


