কলকাতা: হাওড়ায় জঙ্গি কার্যকলাপের তদন্ত ঘিরে ফের চাঞ্চল্য! জঙ্গি-যোগের অভিযোগে ধৃত হামিম মণ্ডলকে (Hamim Mondal) ঘিরে যখন তদন্তের আবহে বিস্ফোরক দাবি করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই (Umesh Rai)। তাঁর দাবি, হামিম মণ্ডল একা নয়, হাওড়ার অলিগলিতে এমন আরও অনেক ‘হামিম’ লুকিয়ে রয়েছে, যাদের খুঁজে বের করা এখন পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার হাওড়া পুরসভায় সাংবাদিক বৈঠকে উমেশ রাই (Umesh Rai) বলেন, পুলিশ একটি সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে ঠিকই, কিন্তু তাতেই বিপদ কেটে যায়নি। তাঁর কথায়, “আমার কাছে কিছু ইনপুট আছে, যা আমি পুলিশকে জানিয়েছি। আমার এলাকায় এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা বিদেশি ব্যক্তিদের হয়ে কাজ করে বলে সন্দেহ।” মন্ত্রী আরও দাবি করেন, সন্দেহভাজনদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলে বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “পুলিশ যদি ওদের ডেরায় হানা দেয়, অনেক অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া যাবে।”
এখানেই থেমে থাকেননি উমেশ রাই (Umesh Rai)। তাঁর দাবি, এই নেটওয়ার্কের মূল হোতা পাকিস্তানে বসে রয়েছে এবং অর্থের বিনিময়ে এ রাজ্যের যুবক-যুবতীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ সামনে আসেনি।
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আরও একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, বেলিলিয়াস রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে ধৃত আদিত্য সিং অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের ছেলে হলেও, তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা থাকার খবর তিনি পেয়েছেন বলে দাবি করেন। এই অর্থ কোথা থেকে এল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর দাবি, অর্থের লোভ দেখিয়ে দেশের যুব সমাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এমনকি Gen Z-দের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী ফাঁদে ফেলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি (Umesh Rai)।
মঙ্গলবার হাওড়া পুরসভায় সাংবাদিক বৈঠকে উমেশ রাই (Umesh Rai) প্রশ্ন তোলেন, “শুধু টাকার জন্য দেশের সুরক্ষা বিক্রি করে দেব? মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি বিক্রি করে দেব?” তাঁর মতে, এই প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সমাজের সকলকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে, আরও সতর্ক থাকতে হবে।
মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমানে অনেক যুবক-যুবতী ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়। তাঁর অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় কারা শাসকদলের বিরুদ্ধে মন্তব্য বা পোস্ট করছেন, সেই ধরনের কার্যকলাপ নজরে রেখে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি চক্র তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ সামনে আসেনি।
এদিকে পুলিশ সূত্রের খবর, পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে উমেশ রাইয়ের (Umesh Rai) নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হতে পারে। তবে নিজের নিরাপত্তার চেয়ে হাওড়া শহরের নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমার নিরাপত্তার থেকেও পুলিশ হাওড়া শহরের অলিগলিতে বিশেষ নজর দিক, যাতে হামিম মণ্ডলের মতো কেউ আর না থাকে।”


