Aaj India Desk, কলকাতা : ঘটনার পাঁচ দিন পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে এল এক নাট্যকর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ। শুভঙ্কর দাশ শর্মা (Subhankar Das sharma) নামে ওই নাট্যকর্মীর দাবি, ২৮ জুলাই গভীর রাতে নাটকের শো শেষে বাড়ি ফেরার পথে চারজন ব্যক্তি তাঁর ধর্মপরিচয় জানতে চান। নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দেওয়ার পর তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে চিকিৎসকদের কাছে গেলে তাঁর চোখ, কান ও পাঁজরে গুরুতর আঘাত ধরা পড়ে বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাট্য ও সাংস্কৃতিক মহলের একাংশ প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে।
রাতের পথে কী ঘটেছিল?
প্রখ্যাত নাট্যকর্মী শুভঙ্কর দাশ শর্মার (Subhankar Das sharma) দাবি, ২৮ জুলাই রাত প্রায় ১২টা নাগাদ কালো পাজামা-পাঞ্জাবি পরে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় চারজন ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন তিনি মুসলিম ধর্মাবলম্বী কিনা। শুভঙ্কর প্রথমে উত্তর দিতে অস্বীকার করলেও পরে নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দিলে তাঁকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা তাঁকে মাটিতে ফেলে চোখ, মাথা, কান ও বুকে একাধিকবার আঘাত করে। মারধরের সময় ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়। একসময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলেও উল্লেখ করেন। আপাতভাবে তাদের বিজেপি কর্মী বলেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মারধরের জেরে গুরুতর আহত
হামলার পর কয়েকদিন বাড়িতে থাকার পর ২ আগস্ট তিনি বি. এন. বোস মহকুমা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান বলে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলেন। পরবর্তী দু’দিন চক্ষু, কর্ণ ও অস্থি বিভাগের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করানো হয়। শুভঙ্করের দাবি, তাঁর কানের পর্দা ফেটে গিয়েছে এবং চোখেও গুরুতর আঘাত লেগেছে।
এরপর শুভঙ্কর (Subhankar Das sharma) জানান, নিরাপত্তার অভাববোধ থেকেই প্রথমে তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। পরে তাঁর বোনকে লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটূক্তি শুরু হওয়ার পর তিনি ঘটনাটি সামনে আনার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি লেখেন, “আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম। কিন্তু এখন ভয় কাটিয়ে উঠেছি। একবার ভয় কেটে গেলে আর ভয় থাকে না।”
ঘটনার পর তাঁর সহ-নাট্যকর্মীদের একাংশ দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর প্রতি এমন কদর্য আক্রমণের বিরুদ্ধে তাঁরা প্রতিবাদে পথে নামারও আহ্বান জানিয়েছেন।


