Aaj India Desk, কলকাতা: মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর কলকাতার টালা সেতুতে তৈরি হয় এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। সন্ধ্যা নামার আগেই সেতুর উপর থাকা একটি উঁচু ল্যাম্পপোস্টে উঠে বসেন এক যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখের সামনেই তিনি দ্রুত খুঁটির মাথায় পৌঁছে যান। প্রথমে নিজের জামা খুলে সেটি ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে দেন, তারপর একেবারে উপরে বসে নানা অঙ্গভঙ্গি করতে শুরু করেন। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন তাঁকে বারবার নেমে আসার অনুরোধ করলেও তাতে কোনও সাড়া দেননি তিনি।
উল্টে পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে কখনও আশপাশের মানুষকে কিছু ভিডিও দেখাতে থাকেন, আবার কখনও নিজেই উপর থেকে ভিডিও রেকর্ড করেন। শুধু তাই নয়, খুঁটির মাথায় ঝুলে পড়া, রড ধরে শরীরের ভারসাম্য দেখানো-সহ একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্টও করতে দেখা যায় তাঁকে। এই দৃশ্য দেখতে মুহূর্তের মধ্যে সেতুর উপর ভিড় জমে যায়। অনেকেই গাড়ি থামিয়ে নেমে পুরো ঘটনাটি দেখতে থাকেন।
স্থানীয়দের দাবি, ওই যুবক বারবার চিৎকার করে বলেন, “শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে কথা বলতে চাই।” এছাড়াও তাঁকে পুলিশকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক মন্তব্য করতেও শোনা যায় বলে দাবি করেছেন উপস্থিত কয়েকজন।
প্রায় ৪০ মিনিট ধরে এই নাটকীয় পরিস্থিতি চলার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পরে কলকাতা পুরসভার গাছ কাটার বিশেষ গাড়ি এনে ধীরে ধীরে যুবককে নিরাপদে নিচে নামানো হয়। পুরো ঘটনায় শ্যামবাজার থেকে চিড়িয়ামোড়মুখী রাস্তায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। বহু গাড়ি আটকে পড়ায় সাধারণ যাত্রীদেরও ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
কেন ওই যুবক এমন বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিলেন, তাঁর মানসিক অবস্থা কেমন ছিল এবং “শুভেন্দুবাবু”-র সঙ্গে কথা বলার দাবি কেন তুলছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।


