নয়াদিল্লি: দিল্লির বঙ্গভবনে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বৈঠক (NCPI-Suvendu meeting) করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠক ঘিরে সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে ছিল জোর জল্পনা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “ইয়ে ব্যস ঝাঁকি হ্যায়, আগে দেখুন কী হয়।” এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা।
এর আগে সংসদ ভবনে এনডিএ-র ‘মঙ্গল মিলন’ সমন্বয় বৈঠকে (NCPI-Suvendu meeting) যোগ দেন এনসিপিআইয়ের অধিকাংশ সাংসদ। গত সপ্তাহে অনুপস্থিত থাকা দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন উপস্থিত ছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সারিতেই দেখা যায় তাঁকে। একই সারিতে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারও।
বঙ্গভবনের বৈঠকে মোট ২২ জন সাংসদ অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এনসিপিআইয়ের ১৯ জন সাংসদ, পাশাপাশি রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। বৈঠকে যোগ দেন মুর্শিদাবাদের আবু তাহের, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের ইউসুফ পাঠানও। যদিও এই তিন সাংসদকে এদিনও এনডিএ-র ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে দেখা যায়নি।
তাঁদের বক্তব্য, নিজেদের সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়েই মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যই উস্কে দিল নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। তিনি বলেন, “আমরা ২০ জনই আছি। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে।” কারা আসতে পারেন, সেই প্রশ্নে রহস্য আরও বাড়িয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, “বুঝে নিন।” রচনার এই মন্তব্য ঘিরেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
অন্যদিকে, বৈঠকের গুরুত্বকে প্রশাসনিক দিকেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেন সাংসদ শতাব্দী রায়। তাঁর দাবি, বৈঠকে এনসিপিআই বা দলীয় রাজনীতি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। মূলত সাংসদদের এলাকার উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং সাংসদ তহবিলের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয়ের বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শতাব্দীর কথায়, “বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামী দিনে নবান্নেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে।” একই সুর শোনা যায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। তিনি জানান, সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে উন্নয়নমূলক বৈঠক করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এই বৈঠকের (NCPI-Suvendu meeting) মাঝেও রাজনৈতিক কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মুর্শিদাবাদের আবু তাহের, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান। টানা দ্বিতীয় দিনও তাঁরা এনডিএ-র ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে যোগ দেননি। যদিও পরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাঁরা। অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই আবু তাহেরের স্পষ্ট জবাব, “আমরা এনসিপিআইয়ে আছি। এনডিএ-তেও নেই, বিজেপিতেও নেই।”
এদিকে, এই তিন সাংসদ তৃণমূলে ফেরার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন শতাব্দী রায়। তাঁর দাবি, “যাঁরা অপমানিত হয়ে দল ছেড়েছেন, তাঁরা আর ফিরে যাবেন না।” কিন্তু রচনার “সংখ্যাটা বাড়তেও পারে” মন্তব্য এবং শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) “ইয়ে ব্যস ঝাঁকি হ্যায়, আগে দেখুন কী হয়” বার্তা ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক অন্দরে নতুন সমীকরণের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। এখন নজর, আগামী দিনে এই ২০-এর সংখ্যা সত্যিই বাড়ে, নাকি রাজনৈতিক অঙ্কে ফের নতুন মোড় আসে।


