Aaj India Desk, কলকাতা : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী (PA) সুমিত রায়কে (Sumit Roy) ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হল। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর খোঁজ না মেলায় একসময় আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও লুক-আউট নোটিস জারি হয়। এই আবহেই ‘আসল’ তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, “সুমিত রায়কে খুন করে দেওয়া হয়নি তো? যদি খুন হয়ে থাকে, তাহলে অনেক কিছুই ধামাচাপা পড়ে যাবে।”
সুমিত রায়ের (Sumit Roy) নাম প্রথম সামনে আসে বর্তমানে জেলবন্দি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার গ্রেফতারের পর। তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল। পাশাপাশি, শালবনির জমি দুর্নীতি মামলাতেও অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে সুমিত রায়ের। এই অভিযোগগুলির তদন্তে প্রায় এক মাস আগে শালবনি থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে সুমিত রায়ের খোঁজ করে। দীর্ঘ তল্লাশির পরও তাঁর সন্ধান মেলেনি। এরপর পুলিশের আবেদনে মেদিনীপুর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও লুক-আউট নোটিস জারি করে।
পরবর্তীতে সুমিত রায় (Sumit Roy) কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। সোমবার দেবরা মামলায় তিনি আগাম জামিন পেলেও শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় কোনও স্বস্তি পাননি। আদালত তাঁকে ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”হাই কোর্ট একটি মামলায় জামিন খারিজ করেছে। অন্য একটি মামলায় জামিন দিলেও দশ দিনের মধ্যে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে হবে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সুমিতকে খুঁজে পাওয়া। কারণ, ও যদি খুন হয়ে থাকে, তাহলে অনেক কিছুই ধামাচাপা পড়ে যাবে।”
শুধু সুমিত রায় নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন। তিনি বলেন, “আমাদের পাসপোর্ট নীল। সাংসদ থাকাকালীন তাঁর পাসপোর্ট ছিল লাল। কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে এমন কোনও দেশে যাওয়া যায়, যেখানে প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। সেখানে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া যায়। চোখ দেখানোর নাম করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন।”
তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ ও আশঙ্কার পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে কোনও প্রমাণ পেশ করেননি। অন্যদিকে, এই মন্তব্য নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পক্ষ থেকেও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।


