Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : বলিউডের থ্রিলারের মতোই টানটান চিত্রনাট্য, টাইগার বা ধুরন্ধরকেই এবার টেক্কা দিচ্ছে বাস্তবের স্পাই অপারেশন! এমন তথ্যই উঠে এসেছে লস্কর-ই-তৈবার এক নেতার মুখে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রিজওয়ান হানিফের দাবি অনুযায়ী, ভারতের এক গোয়েন্দা এজেন্ট পাকিস্তানে প্রবেশ করে বিভিন্ন সময়ে একাধিক অভিযান চালিয়ে ৩০-এর বেশি জঙ্গিকে হত্যা করেছে।
কী দাবি করেছে রিজওয়ান হানিফ?
ভাইরাল ভিডিওতে রিজওয়ান হানিফকে বলতে শোনা যায়, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে লস্করের সদস্যদের একের পর এক হত্যা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থা একজন এজেন্টকে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল এবং সেই এজেন্টই ধারাবাহিকভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
হানিফের দাবি অনুযায়ী, পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, মুজাফফরাবাদ এবং রাওয়ালাকোট-সহ একাধিক এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
‘Unknown Gunman’ প্রসঙ্গ সামনে
হানিফ আরও দাবি করে, পাকিস্তানে যখনই কোনও জঙ্গি নিহত হয়েছে, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘Unknown Gunman’ হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে দেখা গিয়েছে। তার অভিযোগ, এই মডেল ব্যবহার করেই পরিকল্পিতভাবে লস্করের সদস্যদের টার্গেট করা হয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও স্বাধীন বা প্রকাশ্য প্রমাণ সামনে আসেনি।
ভারতের অবস্থান কী?
ভারতের নিরাপত্তা মহলের নজরে ভাইরাল ভিডিওটি এসেছে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভিডিওতে বক্তব্য রাখা ব্যক্তি লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত এক কুখ্যাত জঙ্গি। তবে ভিডিওতে করা ভারতের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ নয়াদিল্লি আগের মতোই অস্বীকার করেছে। এর আগেও পাকিস্তানে জঙ্গি হত্যার ঘটনায় ইসলামাবাদ ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল। প্রতিবারই ভারত জানিয়েছে, এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। ভিডিওর এক পর্যায়ে রিজওয়ান হানিফকে হিন্দু ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যও করতে শোনা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি এবং চরমপন্থী মতাদর্শকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক কুখ্যাত জঙ্গি আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছে। এসব ঘটনার তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জল্পনা তৈরি হলেও, কোনও ক্ষেত্রেই ভারতের সরাসরি ভূমিকার সরকারি প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে লস্কর-ঘনিষ্ঠ এক নেতার মুখে সংগঠনের বড় ক্ষতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করার ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।


