Aaj India Desk, কলকাতা : অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ বা অনুমোদনহীন পেন্টহাউস তৈরি করলে এবার গুনতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা। একইসঙ্গে বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে কর্মী ও গ্রাহকদের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা দেখানোও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
১৫ অগস্ট পর্যন্ত বাড়ল পর্যালোচনার সময়সীমা
তারাতলা কাণ্ডের পর কলকাতা পুরসভা, হাওড়া পুরসভা, বিধাননগর পুরসভাসহ রাজ্যজুড়ে নির্মাণাধীন বহুতলের নকশা ও নির্মাণমান খতিয়ে দেখার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তার সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ২০২৬ সালের ৩১ মার্চকে ‘কাট-অফ ডেট’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নির্মিত কোনও ভবন নিয়ে অভিযোগ এলে বা সরকারি সমীক্ষায় নকশার সামান্য মাপজোকের অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।
গুরুতর অনিয়মে কড়া জরিমানা
সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত তলা নির্মাণ বা গুরুতর নকশা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আর নিয়মিতকরণের সুযোগ দেওয়া হবে না। আবাসিক এবং বাণিজ্যিক উভয় ধরনের ভবনের ক্ষেত্রেই বড় অঙ্কের শাস্তিমূলক জরিমানা ধার্য করা হবে।
অগ্নিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul) বক্তব্য, বেআইনি নির্মাণকে অর্থের বিনিময়ে পরে বৈধ করে দেওয়ার প্রবণতা আর চলতে দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, রাজ্যের নরম মাটির গঠনের কারণে দুইতলার ভিত্তির উপর পাঁচতলা নির্মাণের মতো ঘটনা বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।
বাণিজ্যিক ভবনে পার্কিং বাধ্যতামূলক
শহরের যানজট ও বেআইনি পার্কিং রুখতে বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষেত্রেও নতুন নীতি নেওয়া হচ্ছে। ফায়ার লাইসেন্সের মতোই ভবনের নকশা অনুমোদনের সময় নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা দেখানো বাধ্যতামূলক করা হবে। অগ্নিমিত্রা (Agnimitra Paul) বলেন, কোনও সংস্থায় যদি ২০০ কর্মী থাকেন, তাহলে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেই করতে হবে। কর্মীদের মোটরবাইক বা গাড়ি রাস্তার ধারে বা ফুটপাথে রেখে ব্যবসা চালানোর সুযোগ আর থাকবে না।
তৃতীয় পক্ষের নজরদারিতে নির্মাণকাজ
ভবিষ্যতে নির্মাণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্তরে ‘থার্ড পার্টি মনিটরিং’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, জাতীয় স্তরের একটি স্বীকৃত সংস্থা নির্মাণের প্রতিটি ধাপ তদারকি করবে। প্রতিটি তলা নির্মাণের পর সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিদর্শন ও ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত পরবর্তী তলার কাজ শুরু করা যাবে না। সরকারের মতে, এতে নির্মাণের গুণমান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নজরদারিও আরও কার্যকর হবে।
অগ্নিমিত্রার দাবি, তারাতলা ঘটনার পর নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক ত্রুটি ও নজরদারির ঘাটতি সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভবিষ্যতে বেআইনি নির্মাণ ও নিরাপত্তাহীন বহুতল রুখতে নতুন বিধি কার্যকর করার পথে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।


