Aaj India Desk, কোচবিহার : আগেই মিলেছিল সতর্কবার্তা। শমীক ভট্টাচার্য নিজেই জানিয়েছিলেন, “ডিমের অভিমুখ বদলাতে সময় লাগবে না।” তখন অনেকেই সেটিকে নিছক কটাক্ষ বলেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। এত দিন যে ‘ডিম থেরাপি’ (Egg Therapy) ছিল প্রতিপক্ষকে নিশানা করার রাজনৈতিক প্রতীক, সোমবার কোচবিহারের শীতলখুচিতে সেই ডিমই উড়ল বিজেপির অন্দরেই। তৃণমূলের সঙ্গে আঁতাত ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে দলেরই মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
কী ঘটেছিল শীতলখুচিতে?
সোমবার কোচবিহারের শীতলখুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পঞ্চারহাট বাজার এলাকায় বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দলীয় কর্মী-সমর্থকদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে তীব্র বচসা শুরু হয়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকদের একাংশ বিজেপির শীতলখুচি মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারীকে লক্ষ্য করে ডিম (Egg Therapy) ছোড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য নেতাকর্মীদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি আরও অবনতির আগেই পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। দীর্ঘক্ষণ ধরে উভয় পক্ষকে বোঝানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
কী অভিযোগ উঠেছে?
বিক্ষুব্ধ কর্মীদের অভিযোগ, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের সদস্য ও প্রধানকে বোর্ডে বসতে সহযোগিতা করেছেন বিজেপির একাংশের নেতৃত্ব। এর বদলে শাসকদলের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়াও, স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন সালিশি সভার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্দরে ক্ষোভ জমছিল। সোমবার সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হয়। দুই গোষ্ঠীর মুখোমুখি অবস্থানের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


