নয়াদিল্লি: ৩৭ দিনের দেশকাঁপানো আন্দোলনে আরশোলাদের প্রধান দাবী ছিল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। পড়ুয়াদের সঙ্গে বিভিন্ন মহলের মানুষ, বিরোধীরা মুখ খ্যুলতে শুরু করায় চাপে পড়ে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু তাঁর জায়গায় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান প্রহ্লাদ জোশী (Pralhad Joshi)। ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় গণধর্ষণের শিকার বিলকিস বানো মামলায় ২০২২ সালে রেমিশনের সিদ্ধান্তকে ‘আইনি প্রক্রিয়া’ বলে সমর্থন করেছিলেন এই প্রহ্লাদ জোশী।
এবার সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে নতুন শিক্ষামন্ত্রীকে তুলোধোনা করলেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে (Abhijit Dipke)। সোমবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ বলেন, তাঁদের আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তাঁর দাবি, সেই দাবি পূরণ হলেও নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁকে সমর্থন করে না CJP।
অভিজিতের বক্তব্য, “আমাদের দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, সেটা হয়েছে। কিন্তু তাঁর জায়গায় যাঁকে শিক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে, তিনি প্রহ্লাদ জোশী (Pralhad Joshi)। বিলকিস বানো মামলার দোষীদের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। একজন স্কুলপড়ুয়া মেয়ে এমন দৃশ্য দেখে কী বার্তা পাবে? তাই আমরা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি না।”
এর পাশাপাশি নিট-সংক্রান্ত আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়েও সরব হন CJP প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর (Abhijit Dipke) অভিযোগ, নিট পরীক্ষার চাপে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও পরিবার সেই অর্থ পায়নি। অভিজিতের দাবি, সরকার জানিয়েছে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগে নিয়ম-কানুন খতিয়ে দেখতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “সাংসদ বা বিধায়ক কিনতে যখন কোটি কোটি টাকা খরচ করা যায়, তখন ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে নিয়মের কথা মনে পড়ে? এতে স্পষ্ট, সরকারের সদিচ্ছা নেই।”
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের বিলকিস বানো মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জনকে ২০২২ সালে গুজরাত সরকার রেমিশনের মাধ্যমে মুক্তি দিলে দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। মুক্তির পর কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও সংগঠনের সদস্যরা দোষীদের মালা পরিয়ে স্বাগত জানান, যার ছবি ভাইরাল হয়। পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট সেই রেমিশন বাতিল করে দোষীদের ফের জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর (Pralhad Joshi) বিরুদ্ধে দোষীদের মালা পরানোর কোনও প্রকাশ্য ছবি বা ভিডিও সামনে আসেনি। তিনি সে সময় রেমিশনের সিদ্ধান্তকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ বলেই সমর্থন করেছিলেন। তবে প্রহ্লাদ জোশীর অভিযুক্তদের মালা পরানোর প্রকাশ্যে কোনও ছবি নেই।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আন্দোলনের পর থেকেই অভিজিৎ দিপকে (Abhijit Dipke) জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দায়বদ্ধতার প্রশ্নে তিনি ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে আসছেন। এবার শিক্ষামন্ত্রী পরিবর্তনের পরও সেই অবস্থান থেকে সরে আসেননি CJP প্রতিষ্ঠাতা।


