Aaj India Desk, কলকাতা:বীরভূমের মহম্মদবাজারে বেআইনি পাথর খাদান ও রাজস্ব ফাঁকি মামলার তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মিনার মণ্ডলের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশির পর বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। এই আবহেই শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে মিলেছে বলে দাবি করা একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে আনেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, টুলু মণ্ডলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯৩ কোটি টাকার হদিস মিলেছে এবং ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া তল্লাশিতে ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, তিনটি ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন, ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার এবং মোট ২৩টি স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। ওই সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে সাতটি বাড়ি, একটি ফার্মহাউস এবং প্রায় ৩০০ বিঘা জমি। আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে টুলু মণ্ডল রাজ্যের বাইরে চলে গিয়েছেন। তাঁকে খুঁজে বের করতে ডিজিপিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে ২৪২টি বিভিন্ন ধরনের গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সেগুলির নিলাম করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর দাবি, গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে বেআইনি পাথর খাদান ও রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তদন্তে ভূমি দফতর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুযোগ ও দায়িত্ব পেলে রাজ্য পুলিশ বড় দুর্নীতি চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, টুলু মণ্ডলের এই বেআইনি ব্যবসা তৎকালীন মমতা সরকারের রাজনৈতিক মদত ছাড়া দীর্ঘদিন চলতে পারত না। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।


