Aaj India Desk, কলকাতা: পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)-র নজরে এবার কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra) ও তাঁর পরিবার। স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দেন মদন মিত্র। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও চোখে তাঁর পরিচিত সানগ্লাস পরে সকালে ইডি অফিসে পৌঁছন তিনি।
গাড়ি থেকে নামতেই সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। ইডির জেরার আগে মদন মিত্র বলেন, “তদন্তে আমি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব। যে সব নথি আনতে বলা হয়েছিল, সবই সঙ্গে এনেছি।”
ইডির অভিযোগ, টিটাগড় ও কামারহাটি পুরসভায় টাকা ও সোনার বিনিময়ে অন্তত ১২৫ জন অযোগ্য ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। এই মামলার তদন্তে ব্যবসায়ী অয়ন শীলকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় উঠে আসে মদন মিত্রের নাম। এর আগে মদন মিত্রের ভবানীপুর, দক্ষিণেশ্বর ও জোকার বাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন বা তোলাবাজির চক্র জড়িয়ে রয়েছে কি না।
ইডির নোটিস পাওয়ার পর গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার বয়ান দিতে সিজিও কমপ্লেক্সে যান মদন মিত্রের দুই ছেলে। এরপর শুক্রবার ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি নিয়ে ইডির সামনে হাজির হন তাঁর স্ত্রী। সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার নিজেও তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন কামারহাটির বিধায়ক।
এদিকে, ইডির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মদন মিত্রের রাজনৈতিক অবস্থান বদলকে ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে তিনি বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন। সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেছিলেন, “ইডির থেকেও এবি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বেশি ভয়ের!”
বর্তমানে পুর-নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে মদন মিত্র ও তাঁর পরিবারের একের পর এক হাজিরা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। ইডি তাঁর জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজনে তাঁকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।


