Aaj India Desk, কলকাতা : ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (E20) নিয়ে ফের সামনে এল গাড়িচালকদের অসন্তোষ। বিশেষ করে বাণিজ্যিক গাড়ির চালকদের একাংশের দাবি, E20 ব্যবহারের পর থেকে মাইলেজ কমছে, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়ছে এবং পুরনো গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার, অটোমোবাইল নির্মাতা সংস্থা এবং পরীক্ষামূলক তথ্য বলছে, নতুন E20-কমপ্লায়েন্ট গাড়িতে বড় ধরনের ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি। ফলে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সরকারি অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
চালকদের অভিযোগ কী?
এক বাণিজ্যিক গাড়িচালকের দাবি, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারের পর শুধু গাড়ির পিকআপ নয়, অন্যান্য যন্ত্রাংশেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাঁর কথায়, আগে ছয়-সাত মাস অন্তর সার্ভিস করাতে হলেও এখন প্রায় প্রতিদিনই গ্যারাজে যেতে হচ্ছে। জ্বালানির দাম বেশি দিয়েও মাইলেজ কম পাওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়ায় আর্থিক চাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি আরও দাবি করেন, উবার-ওলা চালকদের মতো যাঁরা প্রতিদিন দীর্ঘ দূরত্বে গাড়ি চালান, তাঁদের ওপর এই বাড়তি খরচের প্রভাব আরও বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়কারির নীতির সমালোচনাও করেন।
মাইলেজ কেন কমছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানলের শক্তি ঘনত্ব পেট্রোলের তুলনায় কম। ফলে একই পরিমাণ জ্বালানিতে তুলনামূলক কম দূরত্ব অতিক্রম করা স্বাভাবিক।সরকার ও ARAI-এর পরীক্ষায় দেখা গেছে, E10 থেকে E20-এ গেলে গড়ে ১ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তা ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে বাস্তব ব্যবহারে বহু গাড়ির মালিক ৭ থেকে ১২ শতাংশ বা তারও বেশি মাইলেজ কমার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মিশ্রণের ফলে দেশের জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমছে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে, কৃষকদের আয় বাড়ছে এবং দূষণও কমছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে সরকারের দাবি। নীতিন গড়কারি একাধিকবার জানিয়েছেন, এই নীতির উদ্দেশ্য জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। তাঁর পরিবারের ইথানল ব্যবসায় সীমিত অংশীদারির বিষয়টি স্বীকার করলেও বাকি অভিযোগগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।


