Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : দেশজুড়ে কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে যে সংস্থা, তার আর্থিক পরিধি কতটা বড়? আর সেই বিশাল ব্যবস্থাপনা চালাতে স্থায়ী কর্মীই বা কতজন? এবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রের দেওয়া লিখিত উত্তরে উঠে এসেছে সেই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র গত পাঁচ বছরের আয়-ব্যয় এবং কর্মী কাঠামোর চিত্র।
রাজ্যসভায় সিপিআই(এম) সাংসদ ড. ভি. শিবদাসনের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার NTA-র আয়-ব্যয়, কর্মী কাঠামো এবং পরীক্ষা পরিচালনার তথ্য তুলে ধরেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ অর্থবর্ষে সংস্থার মোট আয় প্রায় ৩,৫৪৫.৫৯ কোটি এবং মোট ব্যয় প্রায় ৩,০২৫.৫২ কোটি।
সংসদে দেওয়া সেই তথ্য অনুযায়ী :
- ২০১৯-২০: আয় হয় ৫০৪.১৬ কোটি, ব্যয় হয় ৪৪০.২০ কোটি টাকা
- ২০২০-২১: আয় ৫১৫.১৬ কোটি, ব্যয় ৪৩৬.২৫ কোটি টাকা
- ২০২১-২২: আয় ৫০৮.৪৭ কোটি, ব্যয় ৪২৬.৫২ কোটি
- ২০২২-২৩: আয় ৯০০.৫৬ কোটি, ব্যয় ৬৮১.৫২ কোটি
- ২০২৩-২৪: আয় ১,১১৬.৮৪ কোটি, ব্যয় ১,০৪০.৯৬ কোটি
তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, প্রথম তিন বছরে আয় প্রায় ৫০০ কোটির আশেপাশে থাকলেও ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ থেকে তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আয় ১,১০০ কোটির গণ্ডি অতিক্রম করে।
শিক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে NTA ২৭০টিরও বেশি পরীক্ষা পরিচালনা করেছে। এই পরীক্ষাগুলিতে মোট নথিভুক্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬.৬ কোটিরও বেশি। শুধু ২০২৬ সালেই সংস্থাটি ১২টি পরীক্ষা পরিচালনা করেছে, যেখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৫ লক্ষেরও বেশি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত NEET (UG) ২০২৬ পরীক্ষার পুনর্মূল্যায়নের ফলও ১৬ জুলাই প্রকাশ করা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, NTA-তে অনুমোদিত স্থায়ী পদের সংখ্যা মাত্র ৩৯ এবং সবকটি পদই ডেপুটেশনের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্টাফিং স্কিমের অধীনে আরও ১৬টি পদ তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে ৮টি ডিরেক্টর এবং ৮টি জয়েন্ট ডিরেক্টর পদ। বর্তমানে সংস্থায় ৭৩ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন জেনারেল ম্যানেজার, তিনজন উপদেষ্টা এবং ১৭ জন ইয়ং প্রফেশনাল। এছাড়া ডেটা অ্যানালিস্ট, লিগ্যাল অ্যাসোসিয়েট, হাউসকিপিং-সহ বিভিন্ন দায়িত্বে ১২৪ জন কর্মী আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিযুক্ত।
সংসদে প্রকাশিত তথ্য সামনে আসার পর শিক্ষা মহলে NTA-র স্থায়ী জনবল, পরীক্ষা পরিচালনার সক্ষমতা এবং ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও আয় ও ব্যয় দুই সূচকই গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবু স্থায়ী কর্মীসংখ্যা সীমিত থাকায় সংস্থার প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এবার শিক্ষা মন্ত্রক এই কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি করতে সচেষ্ট হয় কিনা, সেটাই দেখার।


