28.3 C
Kolkata
Sunday, July 26, 2026
spot_img

কৃষক থেকে NRC! কেন এবার শিক্ষার্থীদের সামনে পিছিয়ে গেল মোদী সরকার?

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: একসময় এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, মোদী সরকার (Modi Government) একবার কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা আর বদলায় না। কিন্তু গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশের বিভিন্ন গণআন্দোলন সেই ধারণাকে বারবার চ্যালেঞ্জ করেছে। কখনও সিএএ-এনআরসি (CAA-NRC) বিরোধী আন্দোলন, কখনও দীর্ঘ কৃষক আন্দোলন, আর এবার নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্ক ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারকে নিজেদের অবস্থান বদলাতে হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও সেই ধারাবাহিকতারই নতুন উদাহরণ।

শিক্ষার্থী ও যুব সমাজের লাগাতার আন্দোলনের চাপে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, গত ১২ বছরে মোদী সরকারের সামনে এটি তৃতীয় বড় গণআন্দোলন, যার প্রভাবে সরকারকে ব্যাকফুটে যেতে হয়েছে। এর আগে সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলন এবং কৃষকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে, নাগরিক সমাজের চাপের মুখে মন্ত্রী পদত্যাগের ঘটনা ধরলে এম জে আকবরের পর এটি দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

গত কয়েক বছরে একটি বিষয় বারবার সামনে এসেছে। প্রথমে কোনও ইস্যুতে প্রতিবাদ শুরু হয়, তারপর সরকার সেই আন্দোলনের বিরোধিতা করে এবং নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে। কিন্তু আন্দোলন দীর্ঘায়িত হয়ে জনসমর্থন বাড়তে থাকলে এবং রাজনৈতিক চাপ বাড়লে শেষ পর্যন্ত সরকারকে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে হয়।

সিএএ-এনআরসি ইস্যুতে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভের পর এনআরসি কার্যত আর এগোয়নি। এরপর প্রায় এক বছর ধরে চলা কৃষক আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং আন্দোলনকারীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন। এবার নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন, যা সরকারকে আবারও চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হওয়ার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবারের শিক্ষার্থী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এর স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্র। কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা একক নেতৃত্বের অধীনে এই আন্দোলন পরিচালিত হয়নি। ফলে সরকারের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতার পথও তৈরি হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম, ভিডিও এবং বিভিন্ন অনলাইন প্রচারের মাধ্যমে আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি পুলিশের কড়া পদক্ষেপের পরও বহু শিক্ষার্থী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আন্দোলন বিজেপির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকেই ছিলেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রী। এই শ্রেণির মানুষের একটি বড় অংশকে দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সমর্থক বলেই মনে করা হয়। তাই এই অসন্তোষকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

এম জে আকবরের পদত্যাগ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও জনমতের চাপ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি আবারও দেখিয়ে দিল, বড় গণআন্দোলনের সামনে সরকারকে অনেক সময় কৌশল বদলাতে হয়। তবে সরকারি সূত্রের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও সমস্যার সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন