27.3 C
Kolkata
Saturday, July 25, 2026
spot_img

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর রাহুলের হুঙ্কার, ‘এবার RSS-এর জবাবদিহির পালা’

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা (Resigned) দেওয়ার আগেই সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তখন তিনি বলেছিলেন, “নরেন্দ্র মোদী দেশের অতীত, আর ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ। অতীত কখনও ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারে না।” কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সামনে আসে। এরপর ফের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল এই ঘটনাকে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রী এবং দেশের তরুণদের ঐতিহাসিক সাফল্য বলে উল্লেখ করেন।

তবে তাঁর মতে, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেই সমস্যার সমাধান হবে না। রাহুল বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান আসলে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতির একটি প্রতীক মাত্র। আসল সমস্যা আরও গভীরে। তাঁর অভিযোগ, আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তোপ

রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, এক সময় ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের কাছে সম্মানিত ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই ব্যবস্থার ওপর ধারাবাহিকভাবে আঘাত এসেছে। তিনি বলেন, বেসরকারীকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের কারণেই দেশের তরুণদের মধ্যে এত ক্ষোভ জমেছে।

তাঁর কথায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সরকারের আসল দায়িত্ব এখন শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার করা। শুধু একজন মন্ত্রীকে সরিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না।

আরএসএস-কে নিশানা

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আরএসএস-এর বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ করেন রাহুল। তাঁর দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেওয়ার ক্ষেত্রে যতটা দায় সরকারের, ততটাই দায় আরএসএস-এরও। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশকে ধীরে ধীরে নষ্ট করা হয়েছে।

ছাত্রদের বাকি দাবি

রাহুল জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ হলেও আন্দোলনকারীদের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনও পূরণ হয়নি। তাঁর দাবি, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর যাঁরা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যাঁরা সেই নির্দেশ কার্যকর করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশজুড়ে যে অনিয়ম এবং ছাত্রদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে, তার দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ্যে দেশের ছাত্রসমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

অমিত শাহকে নিয়েও অভিযোগ

রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশি কড়াকড়ি এবং বলপ্রয়োগের পিছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আগামী সংসদ অধিবেশনে এই বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হবে।

সংসদে বিরোধীদের অবস্থান

সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদ অধিবেশন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাহুল জানান, কংগ্রেস একা কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না। বিরোধী জোট INDIA-র সব দলের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে। সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন। সরকার যদি এই বিষয়গুলিতে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আন্দোলন আরও বড় আকার নিতে পারে।

সবশেষে রাহুল বলেন, কংগ্রেস শুরু থেকেই ছাত্র আন্দোলনের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তাঁর মতে, এই লড়াই শুধু একটি রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার লড়াই।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন