Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : ৩৬ দিন ধরে চলা দীর্ঘ লড়াই ও আন্দোলনের পর শনিবার দিল্লির জন্তর মন্তরে খুশির জোয়ার। কিছুক্ষণ আগেই NEET পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক, বিরোধীদের চাপ এবং ছাত্র আন্দোলনের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাঁর পদত্যাগের পরই আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Dipke) তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর দিল্লির জন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের মধ্যেই চোখ মুছতে মুছতে অভিজিৎ (Abhijit Dipke) জানান, “আমরা করে দেখিয়েছি। ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। আজকের এই জয় সেই সব ছাত্রছাত্রীদের জন্য, যাদের জীবন নষ্ট হয়েছে। এটি এই ছাত্রদেরই জয়।” আন্দোলনের মঞ্চ থেকে সেই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীর নাম উল্লেখ করে তাঁদের স্মরণও করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ঋতিক মিশ্র, অংশিকা পাণ্ডে, ভাগ্যশ্রী, উমেশ মালি, রিয়া কুমারী থাপা, অনুকীর্তনা, রিমা বেগম, সিদ্ধার্থ হেগড়ে, প্রদীপ মেঘওয়াল, শিবানী যাদব, রেণু মীনা, আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী, কাহান প্যাটেল এবং মৈথিলী সোনাওয়ানে।
পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের অভয় দিয়ে অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Dipke) বলেন, “ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এটাই গণতন্ত্র। ধর্মেন্দ্র পদত্যাগ করেছেন ঠিকই, কিন্তু আমাদের আরও দুটি দাবি রয়েছে। আমরা এখন পিছু হটব না। যেসব শিশু আত্মহত্যা করেছে, তাদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর দ্বিতীয়ত, ২০ তারিখে যেসব পুলিশকর্মী গুণ্ডামি করেছে, সেই পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “আরশোলাদের সঙ্গে কিন্তু লাগতে আসবেন না।”
উল্লেখ্য, পদত্যাগের পরেই প্রকাশিত খোলা চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান বা অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাঁর দাবি, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যাতে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি পরিস্থিতির অপব্যবহার করতে না পারে এবং ছাত্রদের ভবিষ্যৎ যাতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে না যায়, সেই লক্ষ্যেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবে কেন্দ্র সিজেপির প্রথম ও প্রধান শর্ত মেনে নিলেও এবার বাকি দুই শর্ত পূরণ করে কিনা সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।


