Aaj India Desk, কলকাতা: বুধবার বিধানসভায় মার্শালদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)-কে পাঁজাকোলা করে বাইরে বের করে দেওয়া— সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত রইল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা (West Bengal Assembly)। আগের দিনের ঘটনাকে স্পিকার রথীন্দ্র বসু “কলঙ্কজনক” বলে উল্লেখ করতেই নতুন করে শুরু হয় বিতর্ক। স্পিকার, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, শাসক ও বিরোধী পক্ষের বিধায়কদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডায় আবারও সরগরম হয়ে ওঠে অধিবেশন।
‘কলঙ্কজনক’ মন্তব্য ঘিরে আপত্তি
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হতেই তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay) স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বুধবারের ঘটনাকে স্পিকার “কলঙ্কজনক অধ্যায়” বলায় শাসকদলের একাংশ আপত্তি তোলে। তবে স্পিকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগের দিনের ঘটনা নিয়ে আর কোনও আলোচনা হবে না।
এরপরই কুণাল ঘোষ উঠে প্রশ্ন করেন, “আমি ১৯৯০ সাল থেকে এই বিধানসভা রিপোর্টার হিসেবে দেখছি। আপনি কেন এই ঘটনাকে কলঙ্কজনক বললেন?”
জবাবে স্পিকার বলেন, “আমি আপনাকে গতকাল তিনবার নিজের আসনে ফিরে যেতে বলেছিলাম। আপনি কেন নির্দেশ মানলেন না? কেন ধাক্কাধাক্কি করলেন?” তবে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, তিনি কারও সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেননি।
সচিবের আসনের সামনে উত্তেজনা
এই বিতর্ক চলাকালীন বিধানসভার সচিবের আসনের সামনে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যান বিজেপি ও তৃণমূলের বিধায়কেরা। একদিকে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি, অন্যদিকে কুণাল ঘোষ। দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এগিয়ে এসে কুণাল ঘোষকে শান্ত করেন এবং সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। অন্যদিকে পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বিজেপি বিধায়কদের শান্ত করেন। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অধিবেশন মুলতুবি না করেই আবার শুরু হয়।
বুধবার কী হয়েছিল?
বুধবার স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনা চলার সময় বিধায়ক আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখতে উঠলে তাঁর আসনের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন কুণাল ঘোষ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমার নাম কেন বাদ দেওয়া হল?”
সেই সময় আখরুজ্জামানের পাশে বসেছিলেন ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষ বারবার প্রশ্ন করতে থাকায় ঘটনাস্থলে বিজেপি বিধায়ক, পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও পৌঁছে যান।
স্পিকার বারবার কুণাল ঘোষকে নিজের আসনে ফিরে যেতে বলেন। তিনি সতর্ক করে জানান, নির্দেশ না মানলে তাঁকে কক্ষের বাইরে বের করে দেওয়া হবে। কিন্তু কুণাল ঘোষ নিজের অবস্থান না বদলানোয় মার্শালদের ডাকা হয়। তাঁকে সরাতে গেলে মার্শালদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একসময় তিনি মেঝেতে পড়ে যান। পরে মার্শালরা তাঁকে পাঁজাকোলা করে বিধানসভা কক্ষের বাইরে নিয়ে যান। এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার কালীঘাট ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের বিধায়কেরা ওয়াকআউট করেন।


