Aaj India Desk, কলকাতা: লোকসভার বাদল অধিবেশন (Monsoon Session) থেকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড হওয়ার পরদিনই সংসদ চত্বরে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদে সামিল হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। গলায় একটি প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে একাই প্রতিবাদ করতে দেখা যায় তাঁকে। সেই প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘বিজেপির সঙ্গে সংসদে ২০ জন গদ্দার রয়েছে।’ শুধু প্ল্যাকার্ড নিয়েই দাঁড়িয়ে থাকেননি তিনি, জোর গলায় স্লোগানও দেন। পাশাপাশি বিজেপি এবং দল ছেড়ে যাওয়া সাংসদদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
কেন সাসপেন্ড করা হয়েছিল?
বুধবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নির্দেশে বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। জানা গিয়েছে, এনসিপিআই সাংসদ তথা লোকসভার মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং টিডিপি সাংসদ কৃষ্ণপ্রসাদ তেনেটি তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগ ছিল, সংসদের নিয়ম ও শালীনতা ভঙ্গ করেছেন তিনি।
কী অভিযোগ উঠেছে?
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ-সহ কয়েকজন মহিলা সাংসদকে নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অসংসদীয় ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও, অধিবেশন চলাকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি এবং অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করার অভিযোগও ওঠে।
টিডিপি সাংসদ কৃষ্ণপ্রসাদ তেনেটি একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের দলের মহিলা সাংসদদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন। সংসদের মর্যাদা বজায় রাখতেই স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদে কী বললেন কল্যাণ?
সাসপেনশনের পরও নিজের অবস্থান থেকে সরেননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং বিদ্রোহী সাংসদদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর কথায়, “আমাকে সাসপেন্ড করে ওরা কী লাভ করবে? দেড় মাস আগে কলকাতায় ওদের একটা বৈঠক হয়েছিল, সেখানে বড়জোর ২০ জন ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ওদের ভোট দেয়নি। ওদের সঙ্গে ২০ জন ভোটারও নেই। ওরা সবাই বিশ্বাসঘাতক। তবে মনে রাখবেন, আর এক বছরের মধ্যেই এই সরকার পড়ে যাবে।”


