Aaj India Desk, কলকাতা : ডিএ মামলার শুনানিতে ফের বাধা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই মামলায় ‘তারিখ পে তারিখ’ যেন আক্ষরিক অর্থেই সত্য হয়ে উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টে বৃহস্পতিবার তালিকাভুক্ত থাকলেও এই মামলার শুনানি হয়নি। অন্যদিকে রাজ্য সরকার স্ট্যাটাস রিপোর্টে আর্থিক চাপের কথা জানিয়ে আপাতত ১৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) দেওয়ার অনুমতি এবং বাকি অর্থ ২০২৮ সালের মধ্যে চার কিস্তিতে পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে ডিএ (DA) সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত দিনে মামলাটি শোনা হয়নি। পরবর্তী শুনানির দিনও এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার নিষ্পত্তি কবে হবে তা নিয়ে ধন্ধে রয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা।
স্ট্যাটাস রিপোর্টে কী জানাল রাজ্য?
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের পক্ষ থেকে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। তাতে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজ্যের বক্তব্য, কোষাগারের উপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ থাকায় এই মুহূর্তে একসঙ্গে ১০০ শতাংশ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আদালতের কাছে আংশিক স্বস্তি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
স্ট্যাটাস রিপোর্টে রাজ্য আপাতত ১৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার অনুমতি চেয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, বকেয়া ডিএ-র (DA) সম্পূর্ণ অর্থ ২০২৮ সালের মধ্যে চারটি কিস্তিতে পরিশোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ এককালীন নয়, ধাপে ধাপে বকেয়া মেটানোর প্রস্তাবই আদালতের সামনে রাখা হয়েছে।
ইন্দু মালহোত্রা কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ
ডিএ-র বকেয়া কীভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে পরিশোধ করা যেতে পারে, সেই রূপরেখা তৈরির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।পূর্বতন সরকারের আমলে কাজ শুরু করা ওই কমিটির সঙ্গে নতুন সরকারও বৈঠক করে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই সর্বশেষ স্ট্যাটাস রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে রাজ্য সরকার। ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এখনও নির্ধারিত না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের দিকে। একই সঙ্গে রাজ্যের জমা দেওয়া স্ট্যাটাস রিপোর্ট এবং সপ্তম বেতন কমিশনের অগ্রগতি ভবিষ্যতে ডিএ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই থাকবে নজর।


