কলকাতা: মমতার সঙ্গ ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদকে বাদল অধিবেশনের আগে সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে দিল্লিতে ধুন্ধুমার! এই আবহেই ‘দলবদলু বেইমান’-দের ফের খোঁচা মেরে পোস্ট করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক তথা ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ অন্যতম সৈনিক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। রবিবার এক্সের পোস্টে দলত্যাগীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের আনুগত্যের বার্তা স্পষ্ট করেছেন তিনি।
পোস্টে কুণাল লেখেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বহু বছরের। “ঝড়জল, স্বর্গনরক, রাগ-অভিমান, ভালো-মন্দ, উত্থান-পতনের পর্ব পার হয়েও পথ চলাটা থাকছে।” তিনি (Kunal Ghosh) আরও জানান, যদি দল ছাড়ার ইচ্ছে থাকত, তা অনেক আগেই করতে পারতেন। কারণ, তাঁর দাবি, দলের কয়েকজনের জন্য তাঁর জীবনে “সর্বনাশ” হয়েছে। তবুও তিনি দল ছাড়েননি।
X link: https://x.com/KunalGhoshAgain/status/2078741289965944891
নিজেকে “সৈনিক” বলে উল্লেখ করে কুণাল লেখেন, “আমি দিদিকে শ্রদ্ধা করি, রাগও হয়, আবার ভালোও বাসি।” একইসঙ্গে সাম্প্রতিক দলত্যাগীদের কড়া ভাষায় নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, “যারা অনেক কিছু পেয়েও আজ ভোটে ক্ষতাচ্যুতির পর ব্যক্তিস্বার্থে ছেড়ে যাচ্ছে, এরা মানুষ?” তাঁর (Kunal Ghosh) অভিযোগ, দলের প্রার্থী, প্রতীক এবং ভোটপ্রচারের সুযোগ নিয়ে এখন দল ছেড়ে যাওয়া “বিশ্বাসঘাতকতা”।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, “আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী নন, সরকারে নেই, এই সময়ে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবাটাও পাপ।” শেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার লাইন উদ্ধৃত করে তিনি (Kunal Ghosh) লেখেন, “জয়লোভে যশলোভে রাজ্যলোভে অয়ি/ বীরের সদগতি হতে ভ্রষ্ট নাহি হই।”
প্রসঙ্গত, আর মাত্র একদিন পরেই একসময় তৃণমূলের ‘মেগা ইভেন্ট’ বলে পরিচিত একুশে জুলাই শহীদ দিবস। রাজ্যে পালাবদলের পর একে একে বিধায়ক, সাংসদ খুইয়ে একা হয়ে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একুশে জুলাই পালনের অনুমতি পেতে হাইকোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছে তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষের মত হাতে গোনা গুটিকয়েক লোক নিয়েই একুশের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে চলেছেন মমতা।


