Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ (Jantar Mantar Protest) মঞ্চে হঠাৎ উত্তেজনা। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা বিক্ষোভ কর্মসূচির মাঝেই ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের (Abhijit Dipke) গায়ে এক মহিলা কালি ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ। আচমকা এই ঘটনায় সভাস্থলে কিছুক্ষণের জন্য বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মঞ্চের সামনে উপস্থিত সমর্থকেরা ছুটে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে দিল্লি পুলিশ।
ঘটনার পর অভিজিৎ দিপক বলেন, “নীল আমার রং, জয় ভীম।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। যে মহিলা কালি ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ, তাঁর পরিচয় বা এই ঘটনার পিছনে কী কারণ ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ তাঁকে আটক করেছে এবং কেন তিনি এমন কাজ করলেন, তা জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তও চলছে।
ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে যন্তর মন্তরে যে আন্দোলন চলছে, তার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। কিছু সময়ের জন্য কর্মসূচি ব্যাহত হলেও পরে আবার বিক্ষোভ স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়। একইসঙ্গে পুলিশ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। এদিকে, এই আন্দোলনকে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে এসেছে। আন্দোলনের সমর্থনে ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘদিন না খাওয়ার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার ভোরে দিল্লি পুলিশ তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কিছুক্ষণের জন্য ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করাতে সক্ষম হয়।
চিকিৎসকদের দাবি, দীর্ঘ অনশনের ফলে সোনম ওয়াংচুকের প্রায় সাড়ে নয় কেজি ওজন কমে গিয়েছে। তাঁর রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছিল। শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে বলেই তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিজিৎ দিপক সমাজমাধ্যমে দাবি করেছেন, পুলিশ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অভিযানের সময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে যন্তর মন্তরের এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে অভিজিৎ দিপকের উপর কালি নিক্ষেপের অভিযোগ, অন্যদিকে সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—এই দুই ঘটনাই এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত এখনও চলছে।


