কলকাতা: রাত পোহালেই একসময় তৃণমূলের ‘মেগা ইভেন্ট’ হিসেবে পরিচিত ২১ জুলাই (21st July) শহীদ দিবস। গত বছর পর্যন্ত শহীদ দিবস মানেই ছিল, ধর্মতলায় সাজো সাজো রব, জেলা ভেঙে আসা মানুষের ঢল, আর মঞ্চের উপর মমতা-অভিষেক সহ সম্পূর্ণ তৃণমূল বাহিনী! কিন্তু ছাব্বিশের ভোটে ক্ষমতা যেতেই মমতার (Mamata Banerjee) একুশে জুলাইয়ের রং হয়ে গিয়েছে ফিকে। শহীদ দিবস পালনের জন্য পুলিশের কাছে ধাক্কা খেয়ে হাইকোর্টের নিদেশে অনুমতি মিলেছে শর্তসাপেক্ষে।
অন্যদিকে, মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে শহীদ সমাবেশ করতে চলেছে ঋতব্রতদের ‘আসল তৃণমূল’! সর্বপোরি, এই প্রথমবার এনডিএ শরীক কোনও দল রাজধানী দিল্লিতে শহীদ দিবস পালন করতে চলেছে। এই কর্মসূচির ইঙ্গিত অবশ্য মিলেছিল কয়েক দিন আগেই। দলের লোকসভার মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেছিলেন, “আমার শহিদ, তোমার শহিদ বলে কিছু নেই। শহিদ দিবস আমরাও পালন করব।” সেই মন্তব্যের পর থেকেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, দিল্লিতে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে ‘শহিদ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপিআই। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে দলের সাংসদরা রাজঘাটে একত্রিত হবেন। থাকবে কবিতা পাঠ, সংগীত, নীরব শ্রদ্ধা এবং শহিদ স্মরণ। এমনকি সকল সাংসদের জন্য সাদা পোশাক পরার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। উল্লেখ্য, এনসিপিআই বর্তমানে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের শরিক।
অন্যদিকে, ২১ জুলাইয়ের (21st July) শহিদ দিবস দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম বড় কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত। ফলে বিজেপির শরিক একটি দল কেন একই দিনে ‘শহিদ দিবস’ পালন করছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর চর্চা। তবে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ এনসিপিআই।
সংসদের বাদল অধিবেশনের আবহে দিল্লির রাজঘাটে ২১ জুলাই (21st July) পালনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আভাস দেখছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, বাংলার বহুল পরিচিত রাজনৈতিক প্রতীককে রাজধানীর বুকে তুলে ধরার এই উদ্যোগ শুধু শহিদ স্মরণ নয়, জাতীয় রাজনীতিতে দলের উপস্থিতি জোরালো করারও চেষ্টা। যদিও বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হয়েও ২১ জুলাই (21st July) পালনের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, এ বছর ২১ জুলাই উপলক্ষে দেশের চারটি পৃথক স্থানে শহিদ দিবস পালিত হবে, যা নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন। একসময়ের ধর্মতলা-কেন্দ্রিক কর্মসূচি এখন একাধিক রাজনৈতিক শিবিরের দাবি-দাওয়া ও পাল্টা বার্তার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ফলে ২১ জুলাই (21st July) ঘিরে তৈরি হওয়া এই নতুন রাজনৈতিক লড়াই এখন বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয়।


