কলকাতা: ২০২২ সালে গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। সেই মামলার তদন্তে অনুব্রতের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ পায় ইডি। যার আর্থিক পরিমাণ ছিল ২৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা! বর্তমানে সেই অনুব্রত মণ্ডল নাকি ‘কষ্ট করে সংসার’ চালাচ্ছেন! ‘পাওনাদাররা এসে তাগদা দিয়ে যাচ্ছে’! সদ্য ঋতব্রত শিবিরে যোগদানের পর মমতার তৃণমূলের বিষয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করছেন একসময় বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত (Anubrata Mondal)!
এবার তাঁর দাবী, ধারদেনা করে দলীয় সভা করার টাকা তাঁকে এখনও ফেরত দেয়নি দল! শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমনই দাবী করলেন কেষ্ট। অনুব্রতের দাবি, রামপুরহাটের একটি দলীয় সভার খরচ যাঁর দেওয়ার কথা ছিল, তিনি তা দেননি। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার করে সেই খরচ মেটাতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই টাকা এখনও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর কথায়, এখন ধারদেনার টাকা চাইতে লোকজন বাড়িতে এসে তাগাদা দিচ্ছেন। উপরন্তু তাঁর (Anubrata Mondal) সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজ হয়ে থাকায় সংসার চালাতেও চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “আমার সেই তাবড় ফুটোনি আর আছে? আপনারা তো সব জানেন।”
দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই (Mamata Banerjee) দায়ী করেছেন অনুব্রত। তাঁর দাবি, বহু সংগ্রাম করে বীরভূমে সিপিএমকে সরিয়ে তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি (Anubrata Mondal)। কলকাতার প্রতিটি বড় কর্মসূচিতেই বীরভূম থেকে লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থক নিয়ে যেতেন। কিন্তু আজ দলের এই পরিণতির জন্য অন্য কাউকে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেন তিনি।
কটাক্ষের সুরে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেগে ঘুমান। উনি কান দিয়ে দেখেন, আর চোখ দিয়ে শোনেন। তাই আজ দলের এই অবস্থা।” পাশাপাশি আসন্ন একুশে জুলাই নিয়েও মন্তব্য করেন অনুব্রত (Anubrata Mondal)। তিনি বলেন, “এবার ২১ জুলাই ভালোই হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যদি আসেন, অবশ্যই আসবেন। সবাইকে নিয়ে চললে সেটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।” একইসঙ্গে তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। তবে নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং দলের পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে বলেই স্পষ্ট করেন।


