Aaj India Desk, কলকাতা : সাত বছরের সম্পর্ক। বিশ্বাস, ঘনিষ্ঠতা আর নীরবতার আড়ালে জমতে থাকে একের পর এক অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কই পৌঁছয় থানার দরজায়। এক যুবকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, ব্ল্যাকমেল এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন এক মহিলা। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে মেটিয়াবুরুজ থানায় মামলা দায়ের হলেও, পরে জিরো এফআইআর করে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে বাঁশদ্রোণী থানাকে। (Rape Case)
সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়ের সূত্র ধরেই অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে ওই মহিলার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয় এবং লকডাউনের সময়ও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় ছিল।
এরপর ২০২১ সাল থেকে বেড়াতে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত তাঁকে শহরের বাইরে বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যেত। সেখানেই প্রথম তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা। সেই সময় তাঁর অশ্লীল ছবি ও ভিডিও গোপনে ধারণ করে অভিযুক্ত সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করেছিল। মহিলার দাবি, ওই ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে তাঁকে একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়। প্রতিবাদ করলে তাঁকে খুনের হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।(Rape Case)
সম্প্রতি জোকার একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে মদ্যপ অবস্থায় সারারাত তাঁর উপর নির্যাতন চালানো হয়। সেখানে তাঁকে বিবস্ত্র অবস্থায় হোটেলের বারান্দায় যেতেও বাধ্য করা হয়। সারারাত নির্যাতনের পর সকালে তিনি কোনওমতে হোটেল থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তাঁদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।(Rape Case)
প্রথমে মেটিয়াবুরুজ থানায় মামলা দায়ের হয়। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তের বাড়ি বাঁশদ্রোণীর ব্রহ্মপুর এলাকায়। ওই এলাকাতেই প্রথম ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল। সেই কারণে জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করে মামলাটি বাঁশদ্রোণী থানায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


