Aaj India Desk, কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের (21July) শহিদ দিবসের সমাবেশকে সফল করতে এবার জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বাধীন তৃণমূল (TMC) শিবির। বুধবার দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার জন্য ছয়টি জেলার উপর বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই জেলাগুলি হল কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সমাবেশে বেশি সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত এই জেলাগুলির উপরই দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের শুরুতেই এই বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন বিধানসভায় বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান।
দলীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকে উপস্থিত জেলা সভাপতি, বিধায়ক এবং অন্যান্য সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের জানানো হয়, ২১ জুলাইকে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, শহিদদের স্মরণ ও শ্রদ্ধার দিন হিসেবেও মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। সেই বার্তা পৌঁছে দিয়ে সাধারণ মানুষকে সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আখরুজ্জামান বলেন, রাজ্যের নানা জায়গায় এখনও অনেক দলীয় কর্মী নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। কেউ কেউ এখনও ঘরছাড়া বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তাঁর বক্তব্য, এত বাধা-বিপত্তির পরেও ২১ জুলাই তাঁদের কাছে আবেগের দিন এবং শহিদদের স্মরণ করার দিন। তাই মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আগে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে অনেক সময় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিয়েই বেশি আলোচনা হতো। কিন্তু এবার সেই ছবি বদলাতে চায় দল। এবার পুরো গুরুত্ব থাকবে শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং সেই বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বুধবারের বৈঠকে শুধু সমাবেশের প্রস্তুতি নয়, বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। কোথায় কী ধরনের প্রস্তুতি চলছে, কোন জেলার কী দায়িত্ব এবং কীভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচি সফল করা যাবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার ঋতব্রতপন্থী কাউন্সিলরদের নিয়েও আলাদা বৈঠক হয়েছিল। সেখানে শহর এলাকায় প্রস্তুতি, দায়িত্ব বণ্টন, কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সমাবেশের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ বছরের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। সেই কারণেই কোনও ত্রুটি না রেখে আগেভাগেই সংগঠনকে মাঠে নামানো হয়েছে এবং ছয়টি জেলার উপর বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে।


