Aaj India Desk, কলকাতা : কালীঘাট তৃনমূলের থেকে এক এক ঋতব্রত শিবিরে যোগদান করেছেন মমতার বিশ্বাসভাজনরাই। এমনকি মমতার অন্যতম প্রিয়পাত্র কেষ্ট থেকে শুরু করে মদন মিত্রও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাত ছেড়েছেন। সেই ধাক্কায় বুধবারই রাজ্যের এই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি দাবি করেন, প্রতিবাদে বাধা, বিরোধী কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে দলত্যাগীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি কর্মীদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবাদে বাধার অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অভিযোগ, গত দু’মাসে বাংলায় যেখানে যেখানে প্রতিবাদ হয়েছে, সেখানে বিরোধীদের উপর অত্যাচার, গ্রেপ্তার এবং চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাঁরা এলাকায় সভা বা বৈঠকের অনুমতি পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য তাঁর অফিসের দরজা খোলা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, অতীতেও সেখান থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন এবং প্রয়োজনে আবারও সেখান থেকেই সংগঠনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
বিজেপির বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ
নাম না নিয়েই ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, বিজেপির নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তির অভাব থাকায় এমন কিছু ব্যক্তিকে সামনে আনা হয়েছে, যারা কার্যত দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার কথাও বলবেন না।
তিনি দাবি করেন, বিজেপি তৃনমূল কর্মীদের সামনে কার্যত দুটি পথ রেখে দিয়েছে। ‘বিজেপির সমর্থনকারী’ ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়া অথবা জেলের মুখোমুখি হওয়া। তাঁর দাবি, বহু তৃণমূল কর্মী ইতিমধ্যেই জেলে গিয়েছেন। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, আদর্শের সঙ্গে আপস করলে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না, কিন্তু তিনি সেই পথ বেছে নেননি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি আদর্শকে বিকিয়ে খাই না।”
পাশাপাশি দলত্যাগীদের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “যাঁদেরকে আমার দলীয় প্রতীকে মানুষ নির্বাচিত করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এখন বিজেপির সঙ্গে গিয়েছেন, বিজেপির কোলে দোলা খাচ্ছেন।” সেই প্রসঙ্গে মানুষের কাছে ক্ষমা চান তিনি। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা দল ছেড়েছেন তাঁরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে তৃণমূল কর্মীরা সংগঠনের লড়াই চালিয়ে যাবেন।
অভিষেককে নিয়ে সমালোচনার পাল্টা বার্তা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সাম্প্রতিক সমালোচনারও জবাব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অভিষেককে আক্রমণ করাকে অনেকেই দল ছাড়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন। মমতার দাবি, তদন্তকারী সংস্থার একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও অভিষেক রাজনৈতিক লড়াই থেকে সরে যাননি। তাঁর বক্তব্য, আপসের পথে হাঁটলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত, কিন্তু অভিষেক সেই পথ বেছে নেননি। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, ভবিষ্যতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন।
উল্লেখ্য, ইডির তল্লাশি ও তলবের পরেই তড়িঘড়ি নিজের অবস্থান বদল করে বুধবার সকালেই ঋতব্রত শিবিরে যোগদান করেছেন মদন মিত্র। এরপর পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন বক্তব্য আসায় জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কালীঘাট তৃনমূল ও আসল তৃনমূলের এই সংঘাত কোথায় গিয়ে শেষ হবে, সেই নিয়েই বাড়ছে জল্পনা।


