30.2 C
Kolkata
Tuesday, July 14, 2026
spot_img

১৭ দিনের অনশনে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সোনম ওয়াংচুক! কেনো নীরব কেন্দ্র ?

Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা অনির্দিষ্টকালের অনশনে ১৭ দিন পার করলেন লাদাখের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। এতদিন অনশন চলায় তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হয়েছে। রীতিমত মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন তিনি। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও, মঙ্গলবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা আলোচনার উদ্যোগ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে সময়ের সাথে সাথে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও বাড়ছে।

কেন অনশনে ওয়াংচুক?

সাম্প্রতিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান ও অনশন শুরু করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সমর্থনে সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর দায় সরকারকে নিতে হবে।

শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি

অনশনের ফলে সোনাম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) ওজন ইতিমধ্যেই প্রায় ৮.৫ কেজি কমেছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। মঙ্গলবার এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) প্রকাশিত একটি ছবিতে তাঁকে চিকিৎসকদের ঘিরে থাকতে দেখা যায়। এর আগে ওয়াংচুক জানিয়েছিলেন, দাবি পূরণ না হলে তিনি হয়তো ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যেতে পারেন যদি না তার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বাড়ছে অনশন প্রত্যাহারের আর্জি 

সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব, আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, আপ নেতা অতীশী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা সরকারের কাছে দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রবীণ অভিনেত্রী জিনাত আমানও সমাজমাধ্যমে সরকারের কাছে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জবাব শান্তিপূর্ণ সংলাপ হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, “সরকার আপনার এবং কোটি কোটি যুবকের জীবন নিয়ে ভাবিত নয়। কিন্তু আমাদের জন্য আপনার বেঁচে থাকা জরুরি। দয়া করে অনশন প্রত্যাহার করুন এবং লড়াই জারি রাখুন।”

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত কোনো বৈঠক বা আনুষ্ঠানিক কথোপকথনের ঘোষণা করেনি। এর আগে আন্না হাজারের অনশনের সময় জনমতের গুরুত্ব বুঝে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনার পথে এগিয়ে এসেছিল। সেই তুলনা টেনে বিরোধীদের একাংশ এবং সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ বর্তমান সরকারের এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখলেও সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন