Aaj India Desk,কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)-র মাসিক ৩,০০০ টাকা নিয়ে রাজ্যের মহিলাদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। জুন মাসের শুরু থেকে ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রথম কিস্তির পর জুলাই মাসেও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা এক কোটিরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে। তবে এখনও বহু আবেদনকারী টাকা না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের জল্পনা ছড়িয়েছে। কেউ বলছেন, সন্তান বেসরকারি স্কুলে পড়লে টাকা মিলবে না। আবার কারও দাবি, বাড়িতে বেশি পাকা ঘর থাকলেও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, স্বামী সরকারি চাকরিজীবী হলে তাঁর স্ত্রী অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন কি না।
সম্প্রতি নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দফতরের একটি বৈঠকের পর প্রকাশিত নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং নিয়মিত সরকারি ভাতা বা পারিশ্রমিক পাওয়া কিছু শ্রেণির মানুষকে আপাতত এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
সেই তালিকায় রয়েছেন আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, পার্শ্বশিক্ষক এবং সিভিক ভলান্টিয়াররা। তাঁদের আবেদন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
তবে স্বামী সরকারি চাকরিজীবী হলে তাঁর স্ত্রী অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশ বা সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ফলে এই বিষয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে।
সরকারের দাবি, প্রকৃত আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের হাতেই এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে আবেদনপত্রগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, যাঁদের আবেদনে নাম, ঠিকানা বা অন্য কোনও তথ্যগত ভুল রয়েছে, তাঁদের জন্য পোর্টালে ‘এডিট অপশন’ চালু করা হয়েছে। ফলে ছোটখাটো ভুলের কারণে আবেদন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।
অর্থাৎ, অন্নপূর্ণার ৩,০০০ টাকা পেতে হলে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশিকাই এখন সবচেয়ে ভরসার জায়গা।


