Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং জ্বালানির বিকল্প হিসেবে পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল (E-20) মেশানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু এই উদ্যোগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে, এমনকি এনডিএ (NDA) সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও অনীহা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি সি-ভোটার (C-Voter)-এর একটি জনমত সমীক্ষায় এমনই ছবি উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফল কেন্দ্র সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ৫২.৫ শতাংশ এনডিএ সমর্থক জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের গাড়িতে ই-২০ পেট্রল ব্যবহার করতে চান না। মাত্র ১৮.১ শতাংশ এই জ্বালানি ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছেন। আর ২৯.৫ শতাংশ এখনও এ বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেননি।
শুধু এনডিএ সমর্থকই নন, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই নীতি নিয়ে আপত্তি রয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ মানুষ ইথানল (Ethanol) মিশ্রিত পেট্রলের নীতির বিরোধিতা করেছেন। এর বিপরীতে ২২ শতাংশ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। এনডিএ ভোটারদের মধ্যে ৪৮.২ শতাংশ এই নীতির বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন, ২৪.৪ শতাংশ সমর্থন করেছেন এবং ২৭.৪ শতাংশ নিরপেক্ষ থেকেছেন।
কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করি দাবি করেছিলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারে কোনও গাড়ির ক্ষতি হয়েছে—এমন প্রমাণ নেই। তবে অনেক গাড়িচালকের অভিযোগ, ই-২০ পেট্রল ব্যবহারে ইঞ্জিনের ওপর প্রভাব পড়ছে এবং আগের তুলনায় মাইলেজও কম মিলছে। কয়েকটি গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাও জানিয়েছে, ইথানল মেশানো জ্বালানিতে মাইলেজ কিছুটা কমতে পারে। কেন্দ্র সরকারও স্বীকার করেছে, কিছু গাড়ির ক্ষেত্রে ই-২০ পেট্রল ব্যবহারে ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমে যেতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ই-২০ পেট্রলের দাম সাধারণ পেট্রলের চেয়ে কম হবে—এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের মতে, এই জ্বালানির দাম শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের উপর নির্ভর করে না, ইথানলের বাজারমূল্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কৃষকদের কাছ থেকে লাভজনক দামে ইথানল কেনা হয় বলে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও ইথানলের দাম বেশি থাকলে পেট্রলের দাম কমার সম্ভাবনা কম। ফলে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে কেন্দ্র সরকার উদ্যোগী হলেও, মাইলেজ, ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা এবং দামের মতো বিষয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ এখনও পুরোপুরি কাটেনি।


