Aaj India Desk, কলকাতা: সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে কি পুরনো ঘটনারও হিসাব মেটাতে শুরু করেছে প্রশাসন? কলকাতা পুলিশের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন সেই প্রশ্নই উঠছে। অতীতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের দুই ডিএসপি (DSP) পদমর্যাদার আধিকারিককে সাসপেন্ড (Suspend) করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের বহু পুরনো চ্যাটের স্ক্রিনশট সম্প্রতি সামনে আসে। সেই স্ক্রিনশট প্রশাসনের নজরে পৌঁছানোর পরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। এরপর শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় না রাখার অভিযোগে লালবাজার ওই দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়।
সূত্রের খবর, সাসপেন্ড হওয়া দুই আধিকারিক সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের বন্দর বিভাগ (Port Division) এবং উত্তর বিভাগে (North Division) দায়িত্বে ছিলেন। দু’জনেই পদোন্নতি পেয়ে ডিএসপি পদে কাজ করছিলেন। কিন্তু অতীতের একটি ঘটনার জেরেই তাঁদের কর্মজীবনে বড় ধাক্কা এল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালে। সে সময় রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল এবং শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন বিরোধী দলনেতা। একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশের অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আলোচনা চলছিল। অভিযোগ, সেই আলোচনার সময় এক পুলিশ আধিকারিক শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরে ওই গ্রুপে থাকা আর এক আধিকারিক সেই মন্তব্যকে সমর্থন করেন।
তৎকালীন সময়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে না এলেও পরে সেই চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রশাসনের হাতে পৌঁছায়। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর পুরনো বিভিন্ন নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখার সময় এই বিষয়টিও সামনে আসে। এরপর সেই তথ্য নবান্ন থেকে লালবাজারে পাঠানো হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এরপর পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে কলকাতা পুলিশ সিদ্ধান্ত নেয় যে, সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনও পুলিশকর্মীর রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্য করা শৃঙ্খলাবিরোধী। সেই কারণেই বন্দর ও উত্তর বিভাগের ওই দুই ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।


