কলকাতা: চারদিনের ব্যবধানে শনিবার ফের বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ নিহত নাবালিকার বাড়িতে যান তিনি। উলুধ্বনিতে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। প্রায় ১০ মিনিট সেখানে নির্যাতিতার (Baruipur rape and murder) পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর গণপিটুনিতে নিহত যুবক ইন্দ্রজিতের বাড়িতে যান শুভেন্দু। ইন্দ্রজিতের দাদার হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, “নির্যাতিতার পরিবারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তাঁরা ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মনিটরিং-এ তদন্ত চলবে”। পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত যুবক সম্পর্কে শুভেন্দু বলেন, “এটা নিছক গণপিটুনি নয়। ওই যুবকের নাম পরিচয় জেনে পিটিয়ে মারা হয়েছে। আমরা তাঁর পরিবারের পাশে আছি”।
এরপর নির্যাতিতার পরিবারের দাবী মেনে বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন স্থায়ী পুলিশফাঁড়ির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। এই পুলিশফাঁড়িতে আপাতত ২ জন এসআই, ৪ জন এএসআই এবং ৪ জন মহিলা পুলিশ-সহ মোট ২০ জন থাকবেন, বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের (Baruipur rape and murder) ঘটনায় পেরিয়ে গিয়েছে ৭ দিন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। গত ৫ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের নাবালিকার বস্তাবন্দী দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এলাকা। অভিযুক্ত সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামক যুবককে পিটিয়ে মারে উত্তেজিত জনতা।
বারুইপুরে প্রতিবাদের নামে অশান্তি-ভাঙচুর-গণপিটুনির ঘটনায় কাউকে ‘রেয়াত করা হবে না’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। গণপিটুনিতে নিহত যুবক ‘নির্দোষ’ বলেও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। এরপর শুক্রবার থেকেই প্রশাসনের তরফে ইন্দ্রজিতের বাড়ি সারাইয়ের কাজ করতে দেখা যায়। পুলিশি প্রহরা, সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয় তাঁর বাড়িতে।
পাশাপাশি অশান্তি ও গণপিটুনির ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই গ্রেফতারি চলছে। শনিবার আরও ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮। পুলিশের অনুমান, গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


