Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : সূর্যপুরে এখন আর শুধু সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি নয়, চোখে পড়ছে একের পর এক প্রশাসনিক পদক্ষেপ। স্থানীয়দের চাপে ও বিক্ষোভের জেরে কয়েক দিনের ব্যবধানেই বদলাতে শুরু করেছে এলাকার চিত্র। শনিবার বারুইপুর সফরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি, নিহত অটোচালকের পরিবারের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র, বাড়তি নজরদারির জন্য সিসিটিভির মতো একাধিক নতুন পদক্ষেপের সূচনা ও বাস্তবায়নের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সূর্যপুরে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির দাবি জানান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘটনাস্থল থেকেই সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেন। এরপর দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগে ফাঁড়ি নির্মাণের কাজ শেষ হয়। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন তিনি।
এতদিন সূর্যপুরে শুধুমাত্র একটি পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও অভিযোগ গ্রহণ বা তদন্তের মতো পূর্ণাঙ্গ আইনি ক্ষমতা ছিল না। কোনও অপরাধের অভিযোগ জানাতে স্থানীয়দের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের বারুইপুর থানায় যেতে হতো। নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালু হওয়ায় অভিযোগ দায়ের এবং প্রাথমিক পুলিশি পরিষেবা এখন এলাকাতেই পাওয়া যাবে বলে প্রশাসনের দাবি।
এছাড়া ফের শনিবার নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নির্যাতিতার বাড়ি থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এরপরেই গণপিটুনিতে নিহত অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে নিহতের পরিবারের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র এবং ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, “ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দিতে না পারলেও খুনিদের শাস্তি দেওয়া হবে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইন্দ্রজিতের বাড়ির সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সূর্যপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপে এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা জোরদারের বার্তা স্পষ্ট হয়েছে। নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালু, নিহতের পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্যোগ এবং তদন্তে ধারাবাহিক গ্রেফতার, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।


