কলকাতা: যাবতীয় জল্পনা সত্যি করে বৃহস্পতিবার বিকেলে সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিকের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন সুস্মিতা দেব (Susmita Dev)। সন্ধ্যের মধ্যেই এই তিনজনকে রাজ্যসভার প্রার্থী করে বিজেপি। এই ঘটনার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই তৃণমূলের ভাঙন এবং দলের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এই প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ। কলকাতায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুস্মিতা দেব প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বর্তমানে থাকা নেতাদের মধ্যে আদৌ কতজনের নিজস্ব জনভিত্তি রয়েছে।
সুষ্মিতা দেব (Susmita Dev) বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন জননেত্রী। কিন্তু তাঁর সঙ্গে থাকা বর্তমান নেতাদের মধ্যে কতজনকে জননেতা বলা যায়, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাঁর দাবি, দলের অনেক নেতাই নিজেরাই স্বীকার করেন যে তাঁরা কার্যত ‘রাবারস্ট্যাম্প’ এবং মানুষ ভোট দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখেই। সেই পরিস্থিতিতে ওই নেতাদের নিজস্ব জনসমর্থন কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বেরও উল্লেখ করেন সুষ্মিতা দেব (Susmita Dev)। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পিছনে শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্যের মতো নেতাদের তৃণমূল স্তরের সংগঠন ও জনসংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাঁদের তিনি “গ্রাসরুটস লিডার” বলে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনও রাজনৈতিক দল নির্বাচনে হারতেই পারে। স্বাধীনতার পর বিজেপিও বহু নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। কিন্তু একটি দলের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং তৃণমূল স্তরে সেই দলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর। সেই কারণেই রাজনৈতিক লড়াইয়ে জনভিত্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি (Susmita Dev)।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। এরপর তিনি, সুস্মিতা ও প্রকাশ চিক একসঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগের পরই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের (Susmita Dev) সাক্ষাতে ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি হয়ত অসমের রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। তবে বৃহস্পতিবার সল্টলেকে বিজেপির সদর দফতরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর কাছ থেকে পদ্ম-পতাকা হাতে নেন সুস্মিতা। তারপরই তাঁদের আসন্ন রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী করে বিজেপি।


