কলকাতা: পুর নিয়োগ দুর্নীতি (Municipality recruitment scam) মামলায় তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার ইডির বিশেষ আদালতে ১৮৬ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ওই চার্জশিটে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর (Sujit Bose) পাশাপাশি তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর (Samudra Bose) নামও রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের সঙ্গে তাঁদের যোগ রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্জশিটে ইডি দাবি করেছে যে, সুজিত বসু (Sujit Bose) প্রায় ৩৪০ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে গড়ে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে ২৮৪ জন অবৈধ উপায়ে চাকরি পান। ইডির দাবি, এই প্রক্রিয়ায় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে এসেছে (Municipality recruitment scam)।
শুধু সুজিত বসুই নন, চার্জশিটে তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর (Sujit Bose) নামও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। চার্জশিটে সংগৃহীত নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
ইডি আরও দাবি করেছে, পুর নিয়োগ দুর্নীতি (Municipality recruitment scam) কেবল একটি বা দু’টি পুরসভার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। গোটা রাজ্যজুড়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট প্রায় ২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থপাচারের সম্ভাব্য যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)। ছাব্বিশের ভোটের আগে তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হলেও ‘নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত’ আছেন বলে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর আদালতের নির্দেশ মেনে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন হাজিরা দেন বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী। ভোট মিটতেই সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির মুখোমুখি হন তিনি। এরপর ১১ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা (Sujit Bose)।


