কলকাতা: ক্ষমতা যেতেই মমতার তৃণমূলে লেগেছে গ্রহণ! দল-প্রতীক-তহবিল নিয়ে ঋতব্রতদের সঙ্গে দড়ি টানাটানির মাঝেই এবার ইডির ‘৪৪০ ভোল্টের ঝটকা’! বুধবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-র তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA), ২০০২-এর আওতায় কলকাতা ও তার আশপাশে পাঁচটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)-এর তিনটি HDFC ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ৪৪০.৪২ কোটি টাকা ফ্রিজ (বাজেয়াপ্ত) (TMC 440 crore freeze) করা হয়েছে।
ইডির দাবি, বিমান পরিবহণ সংক্রান্ত সংস্থা কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজ-কে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম, বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত চলছে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, তল্লাশির সময় এমন নথি ও তথ্য সামনে এসেছে, যার ভিত্তিতে তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০.৪২ কোটি টাকা ফ্রিজ (TMC 440 crore freeze) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইডির (ED) আরও দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে যে তৃণমূল-সংযুক্ত কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
সেই আর্থিক লেনদেনের উৎস, উদ্দেশ্য এবং বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডির দাবি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ‘মেসার্স কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং তাদের সহযোগী একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এরপর কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৮২.৯৬ কোটি টাকা তাদেরই একটি নবগঠিত সহযোগী সংস্থার কাছে পাঠায়।
ইডির (ED) দাবি, এই অর্থ ব্যবহার করে কেনা হয় একটি Embraer Legacy 600 বিজনেস জেট এবং একটি Agusta 109 Grand New হেলিকপ্টার। তদন্তকারী সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই দুটি উড়োজাহাজ কিনতে মোট ১১২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এছাড়াও, ২০২৩ সালে কেম্যান আইল্যান্ডস-ভিত্তিক একটি সংস্থার কাছ থেকে ১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অসুরক্ষিত ঋণ নেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। ইডির (ED) দাবি, সেই অর্থও হেলিকপ্টার কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হিসেবে ইডি জানিয়েছে, বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার পর সেগুলি আবার তৃণমূল কংগ্রেসের কাছেই ভাড়ায় দেওয়া হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, যে অর্থে এই উড়োজাহাজগুলি কেনা হয়েছে, তার উৎস হিসেবে তৃণমূলের তহবিলের যোগসূত্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরবর্তীকালে ওই উড়োজাহাজ ব্যবহারের খাতেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর হয়েছে বলে দাবি ইডির।


