28.6 C
Kolkata
Wednesday, July 8, 2026
spot_img

মাত্র ২০ দিনেই তৈরি দুধিয়া ব্রিজ, পাহাড়ের উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Aaj India Desk, দার্জিলিং: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া দার্জিলিংয়ের দুধিয়া বেইলি ব্রিজের (Dudhia Bridge) উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি সেতুটির উদ্বোধন করেন। এই সময় তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষের নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই বর্তমান রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেতু নির্মাণের কাজে সহযোগিতার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী, পিডব্লিউডি এবং জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বালাসন নদীর উপর থাকা দুধিয়া সেতুটি ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিতে আগের সেতুটি ভেসে যাওয়ায় দুধিয়া এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী মানুষ এবং পর্যটকদের ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সেই পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতেই অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন বেইলি ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে রাজ্য সরকার আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদ, পুলিশ, প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে পাহাড়ে দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করেন। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে পাহাড়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি-সহ ৫০ সদস্যের একটি স্থায়ী সিভিল ডিফেন্স উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে তারা পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং দমকল বাহিনীর সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করবে।

উদ্ধারকাজ আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে উন্নতমানের সরঞ্জাম কেনার কাজও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আগামী মার্চ পর্যন্ত প্রাক্তন সেনাকর্মীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হবে। ভবিষ্যতে সিভিল ডিফেন্সের অধীনে বিশেষ ‘অগ্নিবীর’ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। কলকাতা, সাগরদ্বীপ এবং দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াংয়ে এই বাহিনীর সদস্যদের স্থায়ীভাবে মোতায়েন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই পাহাড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, কালিম্পঙে নতুন মেডিক্যাল কলেজ অনুমোদিত হয়েছে। দার্জিলিংয়ে আধুনিক ট্রমা সেন্টার এবং ৫০০ শয্যার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরির প্রস্তুতি চলছে। কার্শিয়াং মহকুমা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদনও মিলেছে।

এছাড়া পাহাড়ের চা শ্রমিকদের জন্য ৩১৩ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। চা বাগান ও সিঙ্কোনা বাগান এলাকায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে। ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ২২ হাজারের বেশি মানুষ অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। দার্জিলিং শহরের যানজট কমাতে নতুন সার্কুলার রোড নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প হাইওয়ের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং রোহিনী রোডের দায়িত্বও পিডব্লিউডি গ্রহণ করছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন