Aaj India Desk, কলকাতা : বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন মামলার (Baruipur Rape Case) অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনীতিতে ফের শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) এই ঘটনাকে আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছেন। অথচ তৃণমূলেরই অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্তমান NCPI এর সাংসদ দেব অতীতে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ, এমনকি ‘এনকাউন্টার’ বা ‘শুট অ্যাট সাইট’-এর পক্ষেই মত প্রকাশ করেছিলেন। ফলে তৃনমূলের অন্দরেই এই মতবিভেদ ঘিরে বাড়ছে জল্পনা।
বারুইপুর কাণ্ডের অভিযুক্ত ও প্রত্যক্ষদর্শী প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর পর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ ধীরে ধীরে উত্তরপ্রদেশ মডেলের দিকে এগোচ্ছে। তাঁর দাবি, আইনের নিজের পথে চলার বদলে যদি পুলিশি এনকাউন্টারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাঁর মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
তবে এই বিতর্কের মাঝেই ফের উঠে আসছে তৃনমূলের অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য। ২০২৪ সালের আরজি কর এবং জয়নগরের মহিষমারি কাণ্ডের পর তৎকালীন তৃনমূল নেতা এবং ঘাটালের সাংসদ দেব জানিয়েছিলেন, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য ছিল, দোষ প্রমাণিত হলে এমন অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘শুট অ্যাট সাইট’ জাতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ আবার না ঘটে।
একই সময়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ধর্ষণের মতো অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছিলেন। ডায়মন্ড হারবারের একটি প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের অপরাধীদের সমাজে থাকার অধিকার নেই এবং আইনগত কাঠামোর মধ্যে দ্রুততম সময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সেই বক্তব্যে তিনি সাত দিনের মধ্যে আইন করে এনকাউন্টারের কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
বারুইপুরের ঘটনার পর একদিকে মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra) বর্তমান অবস্থান এবং অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবের অতীতের বক্তব্য এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য নিয়েই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্টে শাসকশিবির এই বিষয়টি তুলে ধরে তৃণমূলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যে যদি তৃনমূলের নেতারাই এনকাউন্টারের পক্ষে থাকে, তবে সেই সময় মহুয়া মৈত্র কেনো কিছু বলেননি ? পাশাপাশি বিজেপি কর্মীদের স্পষ্ট দাবি, বারুইপুরের ঘটনায় প্রভাসকে পরিকল্পিত খুন করা হয়নি, বরং এটি নিছক দুর্ঘটনা ছিল। তবে ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র একটি ফৌজদারি মামলার তদন্ত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নীতিগত বিতর্কেরও অংশ হয়ে উঠেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


