Aaj India Desk,কলকাতা:রাজ্যে বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের বয়স মাত্র দু’মাস। আর এই সময়ের মধ্যেই সরকারকে একসঙ্গে ১৫টি ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এক্স (X)-এ করা একটি পোস্টে তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, “বাংলায় বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারের ১৫টি ‘সাফল্য’—মাত্র দুই মাসে।” এরপরই একে একে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদের দল ভাঙানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, সবকিছুই বিজেপির নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, তৃণমূলকে আর্থিকভাবে দুর্বল করতে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, গত দু’মাসে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং বিরোধী নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ তিনি তুলেছেন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে। তাঁর দাবি, প্রায় এক কোটি প্রকৃত উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এখানেই থামেননি তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, শিশুদের মিড-ডে মিল থেকে ডিম বাদ দিয়ে নিরামিষ খাবার দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তারা প্রয়োজনীয় প্রোটিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একইসঙ্গে ‘বুলডোজার রাজনীতি’র অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হকার ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে জীবিকা নষ্ট করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, বিরোধীদের ভয় দেখাতে সিবিআই, ইডি, সিআইডি ও এসটিএফ-কে ব্যবহার করা হচ্ছে। পোস্টের শেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মানুষের রায়ে যদি বিজেপি ক্ষমতায় এসে থাকে, তাহলে বিরোধী দল আর তৃণমূলকে এত ভয় কিসের?”
অভিষেকের এই ১৫ দফার ‘চার্জশিট’ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এখন বিজেপি এই অভিযোগগুলির কী জবাব দেয়, সেদিকেই নজর সকলের।


