কলকাতা: ২০২৪-এ আরজি করে অভয়ার গণধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডে যখন তোলপাড় সমগ্র দেশ, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বঙ্গবাসীকে ‘উৎসবে ফিরতে’ বলেছিলেন! তখন তিনি ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে ক্ষমতা হারিয়ে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় প্রতিবাদের ডাক দিলেন! আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার বারুইপুর কাণ্ড (Baruipur incident)-সহ একাধিক ইস্যু নিয়ে পথে নামতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি।
মঙ্গলবার বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে ল্যান্স ডাউন মার্কেট পর্যন্ত মিছিল প্রতিবাদ মিছিলের অনুমতি চেয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। এদিন বেলা ২ টর পর এই মামলার শুনানি। প্রসঙ্গত, রবিবার পুকুরে নাবালিকার বস্তাবন্দী দেহ উদ্ধার হওয়ার পর একে একে সামনে এসেছে তাঁকে গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা। যা নিয়ে রবিবার উত্তাল হয়ে ওঠে বারুইপুর (Baruipur incident)।
তবে ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সিট গঠন করে অভিযুক্ত-সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবারই নাবালিকার বাবার সঙ্গে কথা বলে শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখাও কতেন শুভেন্দু সহ শাসকদলের বেশ কিছু নেতামন্ত্রী। অন্যদিকে, সোমবার কালীঘাটে মোমবাতি মিছিল করেন মমতা (Mamata Banerjee)।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের ১৫ বছরের রাজত্বে পার্ক স্ট্রিট, কামদুনি, হাঁসখালি থেকে আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, কখনও তিনি ঘটনাগুলির গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছেন, কখনও নির্যাতিতাকে ঘিরে করা মন্তব্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আরজি কর কাণ্ডের সময়ও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাঁর একাধিক মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
এবার সেই একই রাজনৈতিক নেতৃত্ব বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদে সরাসরি পথে নামতে চাইছেন। এই অবস্থান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই বিরোধী শিবির ও রাজনৈতিক সমালোচকদের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, নারী নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিক অবস্থান পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলানো উচিত নয়।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও তাঁর দলের বক্তব্য, বারুইপুরের ঘটনায় (Baruipur incident) ন্যায়বিচারের দাবিতেই তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচি। দলের দাবি, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবিতেই আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বারুইপুর কাণ্ডকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এখন নজর রয়েছে ৮ জুলাইয়ের কর্মসূচি এবং তা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে।


