Aaj lndia Desk,কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। সোমবার সকালে কালীঘাট থেকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরের উদ্দেশে রওনা দেন তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন (Dola Sen), প্রতিমা মণ্ডল (Pratima Mondal)-সহ দলের একাধিক প্রতিনিধি।
তবে তাঁদের অভিযোগ, পথে একাধিক জায়গায় পুলিশ তাঁদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত তাঁরা গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যান।
রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দোলা সেন কালীঘাটে রবিবার রাতের পুলিশি তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee) বারুইপুরে যেতে পারেন এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কালীঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দোলা সেনের কথায়, গোটা এলাকায় এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যেন জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে সোমবার সকালে সেই অতিরিক্ত পুলিশ আর দেখা যায়নি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যে নিরাপত্তা বরাদ্দ রয়েছে, কেবল সেটুকুই ছিল বলে দাবি তৃণমূলের।
অন্যদিকে, বারুইপুরের এই বহুল আলোচিত মামলার তদন্তেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশ আরও একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এর ফলে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দু’জন। এছাড়া তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সোনারপুর-সহ বারুইপুর সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। রবিবার সকালে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই বারুইপুরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখান। এক অভিযুক্তকে গণপিটুনির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে ব্যাপক হিমশিম খেতে হয়।
ঘটনার পরই নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ফোনে মৃতার বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই আবহেই সোমবার সকালে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল বারুইপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। বের হওয়ার আগে দোলা সেন বলেন, “দেখা যাক, কতদূর যেতে পারি।” এখন তাঁদের সফর এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজ্যবাসীর।


