Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সংগঠনে ফের বড় পরিবর্তন। এর আগে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যপদ-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন। এবার রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও (Chandrima Bhattacharya)। শুধু ওই পদই নয়, দলের অন্যান্য সাংগঠনিক দায়িত্ব, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্বাক্ষরকারীর দায়িত্ব এবং নির্বাচন কমিশনে দলের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর পদ থেকেও তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। ইতিমধ্যেই নিজের পদত্যাগপত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় অন্দরে মতবিরোধ এবং বিদ্রোহের আবহ তৈরি হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সুভ্রত বক্সী দায়িত্ব ছাড়ার পর রাজ্য সভানেত্রী করা হয় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে (Chandrima Bhattacharya)। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, তাঁর নাম ঘোষণার সময়ই কয়েকজন প্রবীণ বিধায়ক ও সাংসদের আপত্তি ছিল। তাঁদের মতে, নির্বাচনে পরাজিত একজন নেতার পক্ষে রাজ্য সংগঠনের দায়িত্ব সামলানো কঠিন হতে পারে।
উল্লেখ্য, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) পদত্যাগপত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবে উল্লেখ না করে “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী” হিসেবে সম্বোধন করা হয়। সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের ডাকা বৈঠকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে উপস্থিত ছিলেন। পরে চন্দ্রিমা জানিয়েছিলেন, সতর্ক করা হলেও তাঁর ছেলে সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঘটনাকে ঘিরেও নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তিনিও ছেলের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন? সেই কারণেই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবে সম্বোধনে সংকোচ বোধ হয়েছে তাঁর?
তবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজে এখনও দল ছাড়ার কোনও ঘোষণা করেননি। তাঁর পদত্যাগ শুধুমাত্র সাংগঠনিক দায়িত্ব পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি ভবিষ্যতে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


