কলকাতা: মোথাবাড়ি অশান্তি মামলার (Mothabari Violence case) তদন্তে আরও বড় অগ্রগতি করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বৃহস্পতিবার মোথাবাড়ি অশান্তি সংক্রান্ত আরও দুটি মামলায় বিশেষ এনআইএ আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এই দুই মামলায় মোট ২৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেস নম্বর ৮/২৬-এ ২২ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৫৪ পাতার মূল চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, কেস নম্বর ১০/২৬-এ ১ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১১ পাতার চার্জশিট পেশ করা হয়েছে।
চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য পালনে বাধা, সরকারি কর্মীর উপর হামলা, সরকারি কর্মীকে হেনস্থা, সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখার মতো অভিযোগ।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা তথ্যপ্রমাণ, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য নথির ভিত্তিতেই এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এনআইএ (NIA) জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও অভিযুক্তের নাম যুক্ত হতে পারে। এই চার্জশিটকে মোথাবাড়ি অশান্তি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় (Mothabari Violence case) মোট ১২টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে চারটি মামলায় ৩১ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। ওই চারটি মামলায় যথাক্রমে ৩, ১৫, ১০ এবং ৩ জনের নাম ছিল। তাদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে মোফাক্কেরুল ইসলাম ও একরামুল বাদনানির।
এবার আরও দুটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে এনআইএ। নতুন চার্জশিটের একটিতে রিঙ্কু আড়ি-র নামও রয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১২টি মামলার মধ্যে ৬টি মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, বাকি মামলাগুলির তদন্তও দ্রুত এগোচ্ছে।
উল্লেখ্য, এসআইআর (SIR) চলাকালীন মালদহের কালিয়াচকের মোথাবাড়ি এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা (Mothabari Violence case) ছড়িয়ে পড়ে। সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা বিডিও অফিসে এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখেন। পাশাপাশি ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও দেখানো হয়। পরে বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের গাড়িতেও হামলার অভিযোগ ওঠে। মহিলা বিচারক-সহ একাধিক বিচারককে হেনস্তার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্তভার গ্রহণ করে এনআইএ।


