Aaj India Desk, কলকাতা : তারাতলা গুদাম ধস মামলায় গ্রেপ্তার প্রাক্তন কলকাতা পুরসভার ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalicharan Banerjee) আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত। শুনানিতে সরকারি পক্ষ দাবি করে, ত্রুটিপূর্ণ বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের পিছনে কালীচরণ একা ছিলেন না। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন এবং একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকারও তদন্ত চলছে। সেই প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবেই এবার উঠে আসছে তৃনমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তারাতলা বিপর্যয় নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘কালী’র নাম উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, কালীচরণের (Kalicharan Banerjee) সুপারিশেই একাধিক নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছিল এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো বিষয়টি সামনে আসতে পারে। পাশাপাশি তিনি ‘কালী’কে নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় কালীচরণের নিয়োগ ও প্রভাবের প্রসঙ্গ তোলেন। সেই সূত্র ধরে জানা যায়, ক্যামাক স্ট্রিটের আদেশেই কালীকে পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন মহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়েও আলোচনা শুরু হলেও, তদন্তকারী সংস্থা বা আদালতের নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা অভিযুক্ত হিসেবে নাম প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalicharan Banerjee) ২০০৩ সালের পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। পরে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে যোগ দেন। ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হলেও প্রশিক্ষণ চলাকালীন চাকরি ছেড়ে ফের পূর্ববর্তী দফতরে ফিরে যান।
২০১০ সাল থেকে তিনি কলকাতা পুরসভার সঙ্গে যুক্ত হন। পরে ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০১৮ সালে ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র হওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাবেই কালীচরণকে তাঁর ওএসডি করা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। এরপর ধীরে ধীরে পুর প্রশাসনে কালীর প্রভাব বাড়তে থাকে বলেও তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তাঁকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে তদন্তের গভীরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে কালীর মুখ থেকে তাঁর উপরমহলার নেতাদের নাম মেলে কিনা সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


