Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: গত বছর পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) জঙ্গি ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ভারত যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ ( Opertion Sindoor) নামে বড় সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, সেই অভিযানে শহিদ হওয়া ছয় ভারতীয় সেনা (Indian Army) সদস্যের নাম প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল কেন্দ্র সরকার।
নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের ‘রোল অব অনার’ (Roll Of Honour)-এ এই ছয় বীর জওয়ানের নাম খোদাই করা হয়েছে। এর ফলে এই অভিযানে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা সেনা সদস্যদের পরিচয় এবার সরকারি ভাবে সামনে এল। এতদিন পর্যন্ত সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নানা খবর প্রকাশ পেলেও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শহিদদের নাম জানায়নি।
যাঁদের নাম স্মারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাঁরা হলেন- সুবেদার মেজর পবন কুমার (হেডকোয়ার্টার্স ১০ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড), রাইফেলম্যান সুনীল কুমার (৪ জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রি), ল্যান্স নায়েক দীনেশ কুমার (৫ ফিল্ড রেজিমেন্ট), অ্যাভিয়েশন টেকনিশিয়ান মুড মুরলীনায়েক (৮৫১ লাইট রেজিমেন্ট), হাবিলদার সুনীল কুমার সিং (২৩৭ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানি) এবং সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার (৩৯ উইং)।
এই ছয়জনের মধ্যে রাইফেলম্যান সুনীল কুমারকে মরণোত্তর ‘বীর চক্র’ এবং সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমারকে ‘বায়ু সেনা মেডেল’-এ সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকা থেকে স্পষ্ট, অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী একসঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান চালিয়েছিল এবং দুই বাহিনীর সদস্যরাই দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
এই সামরিক অভিযানের সূচনা হয় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর। ওই হামলায় ২৬ জন নিরীহ ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়। তার জবাব দিতেই ৭ মে ভোরে ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে।
অভিযানের সময় পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ভিতরে থাকা জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) ও লস্কর-ই-তৈবার (LeT) মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ও লঞ্চপ্যাডে নিখুঁত হামলা চালানো হয়। টানা চার দিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর ১০ মে ভারত ও পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (DGMO)-দের বৈঠকের পর দুই দেশ সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়। ২০১৯ সালে ইন্ডিয়া গেটের কাছে তৈরি হওয়া ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে এই ছয় বীরের নাম যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ‘অপারেশন সিঁদুর’ স্বাধীন ভারতের সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃতি পেল।


