Aaj India Desk,কলকাতা: দল ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী এবং সবংয়ের সাতবারের বিধায়ক মানস ভূঁইয়া (Manas Bhunia)। চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে রেহাই পেতে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। আদালত সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানি হতে পারে।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানায় মানস ভূঁইয়া (Manas Bhunia)-র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সবংয়ের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা বিকাশকুমার টুং। তেমাথানি ইরিগেশন বাংলোতে কেয়ারটেকারের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিকাশবাবুর স্ত্রীর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারীর দাবি, চাকরি পেলেও মাত্র দুমাসের মধ্যেই তাঁর স্ত্রীকে সেই কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পালাবদলের পর চাকরি চলে যায় ওই মহিলার। বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়ার পরও কেন চাকরি স্থায়ী হল না, সেই প্রশ্ন তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সবং থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে।
গত ১৩ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন মানস ভূঁইয়া (Manas Bhunia)। তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ত্যাগ করেন। তার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সামনে আসে।
এদিকে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই মানস ভূঁইয়াকে আর দেখা যায়নি। তিনি কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলও কোনও তথ্য দিতে পারেনি। অবশেষে বুধবার সরাসরি হাইকোর্টে গিয়ে আইনি সুরক্ষার আবেদন জানান তিনি। তাঁর আশঙ্কা, পুলিশ যে কোনও সময় তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে।
এখন নজর আদালতের দিকে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাস থেকে মানস ভূঁইয়া অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা পান কি না, সেটাই দেখার। এই মামলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।


