Aaj India Desk, কলকাতা: সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে যুবকদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। নির্বাচনের আগে বিজেপির ‘ভরসা ইন ভয় আউট’ স্লোগানকে সামনে রেখে এবার যুবকদের ‘ভরসা’র জায়গা তৈরি করলেন তিনি। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘ভরসা’ নামে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা (Unemployment Allowance) প্রকল্প চালুর ঘোষণা করেন তিনি। একইসঙ্গে আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার, হোমগার্ড এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতাভুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্যও একাধিক আর্থিক সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবর থেকে রাজ্যজুড়ে চালু হবে এই ‘ভরসা’ কর্মসূচি। এর আওতায় ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সি শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা আর্থিক সহায়তা (Unemployment Allowance) পাবেন। তবে প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হতে হবে এবং পরিবারের কেউ অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধাভোগী হলে তিনি এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না।
কত টাকা ভাতা মিলবে?
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষার স্তর অনুযায়ী শিক্ষিত বেকাররা মাসিক আর্থিক সহায়তা (Unemployment Allowance) পাবেন। স্নাতক বেকারদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা এবং অন্যান্য শিক্ষিত বেকারদের জন্য ২ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য এককালীন ৩০ হাজার টাকার সহায়তার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি ও পার্শ্বশিক্ষকদের জন্য বেতন বৃদ্ধি
গ্রামীণ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত আশা এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক সাম্মানিক ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে পার্শ্বশিক্ষকদেরও মাসিক বেতন ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার তৃণমূল স্তরের কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেটে সিভিক ভলান্টিয়ার, হোমগার্ড, গ্রিন পুলিশ এবং এনভিএফ কর্মীদের মাসিক ভাতা ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি করার কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, মিড-ডে মিল প্রকল্পের রাঁধুনিদের মাসিক ভাতাও ১ হাজার টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে।
এই নতুন ‘ভরসা’ প্রকল্প, বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধি এবং সামাজিক ভাতার অঙ্ক বাড়ানোর ফলে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতী, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষা ক্ষেত্রের চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং সমাজের আর্থিকভাবে দুর্বল অংশ সরাসরি উপকৃত হতে পারেন কিনা সেটাই এখন দেখার।


